পরিবর্তন আসে।
৪. দেহের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
৫. শরীর থেকে ফসফেট ও ক্লোরাইড লবণের নিঃসরণ কমে যায় এবং গ্যাসীয় বিপাকও হ্রাস পায়।
৬. হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং খাদ্যের চর্বি ও পুষ্টি উপাদান শরীরের সাথে মিশে যাওয়ার গতি কমে যায়।
৭. শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বরযন্ত্রেও বিশেষ পরিবর্তন দেখা দেয়।
৮. স্নায়বিক অনুভূতি স্থবির হয়ে আসে এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আলস্য জেঁকে বসে।
৯. বুদ্ধিমত্তা ও কোনো বিষয়ে গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়।
এই পরিবর্তনগুলো একজন সুস্থ নারীকেও প্রায় অসুস্থতার কাছাকাছি নিয়ে যায়। অনেক সময় তাঁর স্বাভাবিক সুস্থতা ও অসুস্থতার মাঝে পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে পড়ে। একদল নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাসের ২৩ দিনই তারা কোনো না কোনো যাতনা বা কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন।
এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এমিল নডক লিখেছেন— “পিরিয়ড চলাকালীন নারীদের মাঝে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায় তা হলো: মাথাব্যথা, ক্লান্তি, হাড়ের ব্যথা, স্নায়বিক দুর্বলতা, মেজাজের অস্থিরতা, মূত্রাশয়ের সমস্যা, হজমের গোলমাল এবং কখনো কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। অনেক নারীর ক্ষেত্রে বুকের ভেতর মৃদু বা তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।”
রাসূল (সা.)-এর প্রজ্ঞা
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই মহতী প্রজ্ঞার রহস্য বুঝতে পারি, কেন তিনি পিরিয়ড চলাকালীন স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হারাম করেছেন। এটি একটি বর্জনীয় বিদআত। অনেক ফকীহ একে ‘পতিত হবে না’ বলে মত দিয়েছেন, আবার অনেকে একে কঠোরভাবে হারাম বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) পিরিয়ডকালীন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাই স্বামীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা— পিরিয়ড চলাকালীন স্ত্রী যদি আপনার মেজাজ বা পছন্দের সাথে শতভাগ তাল মিলিয়ে চলতে না পারে, তবে তাকে ‘নাশিযাহ’ (অবাধ্য) বা অস্বাভাবিক মনে করবেন না। বরং এই অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন।
একটি শিক্ষণীয় কৌতুক ও উপমা
স্বামীদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ— একটু সময় করে পতঙ্গরাজ্যের নারীদের জীবনধারা নিয়ে পড়াশোনা করুন। তখন দেখবেন আপনি কত বড় নেয়ামত আর নিরাপত্তার মধ্যে আছেন! বিশেষ করে খুন হওয়ার হাত থেকে আপনি যে বেঁচে আছেন, এটাই বড় নেয়ামত। যদি সুযোগ হয় ‘আল-হিলাল’ পত্রিকার ‘শিকারী স্ত্রীরা’
