সাহেব এক যুবক কর্মীকে এমন একটি ভুলের জন্য বকুনি দিলেন যা সে করেনি। ভয়ে সে প্রতিবাদ করতে পারেনি, কিন্তু রাগে তার পিত্ত জ্বলে যাচ্ছিল। বাসায় ফিরে সেই চাপা ক্ষোভ সে উগরে দিল তার স্ত্রীর ওপর—কেবল এই কারণে যে, সে তার চটি জোড়া যথাস্থানে খুঁজে পায়নি। কিন্তু তার বুদ্ধিমতী স্ত্রী বুঝতে পারলেন যে আজ অফিসে নিশ্চয়ই স্বামীর ওপর দিয়ে কোনো ঝড় বয়ে গেছে। তিনি তর্কে না জড়িয়ে রাতের খাবার পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন এবং অত্যন্ত কৌশলে স্বামীর মন হালকা করার চেষ্টা করলেন। স্বামী যখন সব খুলে বললেন, তখন তিনি অনেক শান্ত বোধ করলেন। ঘুমানোর সময় স্বামীর সেই রাগ আর নেই, বরং স্ত্রীর এই মমতাময়ী আচরণের জন্য তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় তাঁর মন ভরে গেল।”
উপসংহার
স্ত্রীর অবাধ্যতা (নুশুজ) ও কিছু প্রাসঙ্গিক বিবেচনা
দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মাঝে মতানৈক্য ও মনোমালিন্য দেখা দেয়। ইসলাম এই অবস্থাগুলো মোকাবিলারও পদ্ধতি শিখিয়েছে। কিন্তু কোনো স্ত্রীকে ‘নাশিযাহ’ (অবাধ্য) বলে গণ্য করার আগে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে নারীর শারীরবৃত্তীয় অবস্থা, যা তার আচরণে প্রভাব ফেলে।
পিরিয়ডকালীন পরিবর্তন ও স্বামীর করণীয়
স্ত্রীর ‘নুশুজ’ বা অবাধ্যতা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রথমেই স্বামীকে নারীর সেই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে অবগত হতে হবে, যা মাসিক ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডের সময় তার মাঝে পরিলক্ষিত হয়। এই সময়ে নারীর স্বভাব, মেজাজ ও চিন্তাধারায় নানা পরিবর্তন আসে। তাই স্বামীর কর্তব্য হলো এই পরিস্থিতিকে ধৈর্যের সাথে বিবেচনা করা। পিরিয়ড চলাকালীন স্ত্রীর সাথে এমন আচরণ করা সমীচীন নয়, যা স্বাভাবিক পবিত্রাবস্থায় করা হয়; বরং এই সময়ে স্ত্রীর খিটখিটে মেজাজ বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকে সহানুভূতির সাথে গ্রহণ করা উচিত।
প্রখ্যাত আলিম ও গবেষক সাইয়্যিদ আবুল আ’লা মওদূদী (রহ.) তাঁর ‘হিজাব’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ১৮৫-১৮৬) বিশ্ববিখ্যাত জীববিজ্ঞানী ও শরীরতত্ত্ববিদদের পর্যবেক্ষণের আলোকে এই পরিবর্তনগুলো এভাবে তুলে ধরেছেন:
১. এই সময়ে নারীর শরীরে তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর থেকে অধিক তাপ নির্গত হতে থাকে, ফলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যায়।
২. নাড়ির স্পন্দন ধীর হয়ে যায় এবং রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হ্রাস পায়।
৩. শরীরের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, টনসিল ও লসিকা গ্রন্থিগুলোতেও
