ইবনে সা’দ আল-সা’ঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত— একদা নবীজি (সা.) ফাতিমা (রা.)-এর ঘরে এলেন, কিন্তু সেখানে আলীকে পেলেন না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন— “তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?” ফাতিমা (রা.) বললেন— “আমার ও তাঁর মাঝে কিছু একটা হয়েছে, তিনি আমার ওপর রাগ করে বাইরে চলে গিয়েছেন।” নবীজি (সা.) একজনকে বললেন— “দেখো তো তিনি কোথায়!” সেই ব্যক্তি এসে খবর দিল— “তিনি মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন।” নবীজি (সা.) মসজিদে গিয়ে দেখলেন আলী (রা.) কাত হয়ে শুয়ে আছেন, তাঁর শরীরের একপাশ থেকে চাদরটি খসে পড়েছে এবং গায়ে মাটি লেগেছে। নবীজি (সা.) তাঁর গায়ের মাটি ঝাড়তে লাগলেন আর আদুরে স্বরে ডাকতে লাগলেন— “ওঠো, হে আবু তুরাব (মাটির বাবা)! ওঠো, হে আবু তুরাব!” সহল (রা.) বলেন— আলী (রা.)-এর কাছে এই ‘আবু তুরাব’ নামের চেয়ে প্রিয় আর কোনো নাম ছিল না। [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মান-অভিমান মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ কন্যাদের অভিভাবকদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। আজকের যুগে অনেক পিতা-মাতা মেয়ের সামান্য ঝগড়ার কথা শুনলেই রাগে ফেটে পড়েন এবং মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন—যাতে জামাইকে ছোট করা যায়। এর ফলে অনেক সময় জেদের বশে সংসার ভেঙে যায় এবং সন্তানরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
সংসারে ছোটখাটো মতভেদ হওয়া খুবই স্বাভাবিক, এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। বরং যে দাম্পত্য জীবনে কখনোই কোনো বিরোধ হয় না, সেটিই গবেষণার বিষয়। সেখানে হয়তো কেউ একজন সত্য গোপন করে মেকি জীবন যাপন করছে। মতভেদ যেহেতু স্বাভাবিক, তাই স্বামী বা স্ত্রীর অভিভাবকদের উচিত প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে তা সমাধান করা। ঠিক যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) করেছেন—তিনি তাঁর জামাতার সাথে রসিকতা করে ‘আবু তুরাব’ ডেকে মান ভাঙিয়েছেন।
ঝগড়া মেটানোর দায়িত্ব মূলত স্বামী-স্ত্রীর নিজেদেরই। আলী (রা.) যদি ঘর থেকে বেরিয়ে না যেতেন, তবে হয়তো ফাতিমা (রা.) নিজেই এগিয়ে গিয়ে তাঁর রাগ ভাঙাতেন। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া হওয়া উচিত শেষ সমাধান, প্রথম নয়। প্রবাদে আছে— “তোমার ভাই যখন কঠোর হয়, তখন তুমি নরম হও।” অর্থাৎ প্রিয়জন রাগান্বিত হলে অপরজনের উচিত ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
‘হাউ টু বিল্ড ইওর ম্যারিড লাইফ’ নামক গ্রন্থে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে:
“এক অফিসের বড়
