তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

শানে নাযিল হয়েছে। যখন মিথ্যুক ও অপবাদদানকারীরা তাঁর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছিল এবং নবীজি (সা.)-এর একজন সাহাবী সাফওয়ান (রা.)-এর সাথে তাঁকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তাফসীর ও সীরাত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সূরাহ আন-নূরের এই ঘটনাটি স্বামী, পিতা এবং সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা। এটি পরিবারকে জাহেলী গোঁড়ামি এবং অমূলক গয়রাত (ঈর্ষা) থেকে রক্ষা করার পথ দেখায়।

হয়তো আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর পত্নীর জীবনেই এই পরীক্ষাটি এনেছিলেন এই জন্য—যাতে ভবিষ্যতে কোনো মুসলিম পরিবার এমন সংকটে পড়লে দিশেহারা না হয়। বরং তারা যেন ধৈর্য ধরে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করে। আরবী প্রবাদেই বলা হয়— “মানুষ তো নবীর স্ত্রীকেও অপবাদ দিয়েছিল!” অর্থাৎ তাঁর চেয়ে কম মর্যাদার কেউ অপবাদের শিকার হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। আমাদের সর্বদা মনে রাখতে হবে— যতক্ষণ পর্যন্ত দোষ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ।

এখানে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান অবস্থান। তিনি এই সংবাদ শুনে ব্যথিত হলেও তাড়াহুড়ো করেননি, বরং ওহীর মাধ্যমে আয়েশা (রা.)-এর পবিত্রতা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। স্বামীদের এমন ধৈর্যশীলই হওয়া উচিত।

একইসাথে আয়েশা (রা.)-এর পিতা আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর ভূমিকাও অবিস্মরণীয়। আরবের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তাদের ‘আবরু’ বা সম্মান। নিজের মেয়ের ইজ্জত নিয়ে এমন অপপ্রচারের পরও তিনি কোনো হঠকারিতা বা জাহেলী উত্তেজনা দেখাননি। তিনি ছিলেন একজন ধৈর্যশীল ও প্রজ্ঞাবান পিতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। পিতাদের এমনই হওয়া উচিত।

স্মর্তব্য যে, এই আয়াতগুলোর প্রথম অংশ মুমিনদের শেখায় যেন তারা কোনো গুজব শোনা মাত্রই তা গ্রহণ বা প্রচার না করে, বরং নেককার মানুষের প্রতি সুধারণা পোষণ করে। আর দ্বিতীয় অংশ সচ্চরিত্রা নারীদের অপবাদদানকারীদের পরকালের ভয়াবহ শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘ইফক’-এর ঘটনাটি বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও এতে মুমিনদের জন্য ছিল অজস্র শিক্ষা ও উপদেশ। এমনকি স্ত্রীরা যেন নিজেদের সব সময় সন্দেহমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন, সেই শিক্ষাও এখানে নিহিত।

দাম্পত্য কলহে স্বামী ও স্ত্রীর অভিভাবকদের দায়িত্ব

দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো মতভেদ ও মনোমালিন্য হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সময় পরিবারের উভয় পক্ষের অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে এ বিষয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সহল

« <
/ 351
> »