তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সুখের সংসারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া মোটেও উচিত নয়।

মধ্যযুগের ইউরোপীয় নাইটদের (যোদ্ধাদের) ঈর্ষার এক অদ্ভুত নমুনা ছিল—তারা যখন যুদ্ধে যেত, তখন তাদের স্ত্রীদের কোমরে তালাবদ্ধ লোহার বেল্ট পরিয়ে দিত, যাতে তাদের সতীত্বের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়! এটি ইসলামের সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ বিপরীত।

আমি স্বামী-স্ত্রীকে—বিশেষ করে যারা ধার্মিক—এই পরামর্শ দেব যে, তারা যেন একে অপরের ওপর আল্লাহর নজরদারি এবং নিজের বিবেকের শাসনের ওপর আস্থা রাখে। অহেতুক ঈর্ষা দিয়ে যেন পরিবারের সুখ নষ্ট না করে। বিশেষ করে যখন তারা উভয়েই শরীয়তের সীমা মেনে চলে, অশ্লীল দৃশ্য বা যৌন উত্তেজক বিষয় থেকে দূরে থাকে এবং পরপুরুষ বা পরনারীর সাথে অবাধ মেলামেশা বর্জন করে।

মনে রাখবেন, অহেতুক সন্দেহ ও বারবার বিরক্ত করা অনেক সময় দুর্বল ঈমানের সঙ্গীকে নিষিদ্ধ কাজের দিকে প্রলুব্ধ করে ফেলতে পারে। তাই সাবধান!

জনৈক কবি বলেছেন—

“যথাসময়ে গয়রাত দেখানোই শ্রেষ্ঠ গুণ,
অসময়ে তা দেখানো কুৎসিত ও করুণ।
মন্দ সেই স্বামী যে কেবল সন্দেহের বশে,
আপন পত্নীকে আগলে রাখে হীন ত্রাসে।
আল্লাহ যেন তোমার এই অমূলক সংশয়,
পবিত্র দ্বীন ও চরিত্রে না দেয় ঠাঁই নিশ্চয়।”

গয়রাতের সঠিক স্থান ও সময় নির্ধারণ

রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো পুরুষকে সফর থেকে ফিরে রাতের বেলা হঠাৎ করে বাড়িতে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন—যাতে সে পরিবারের লোকদের খিয়ানতকারী মনে না করে বা তাদের ভুলত্রুটি খুঁজে না বেড়ায়। [সহীহ মুসলিম] এটি অহেতুক সন্দেহ প্রতিরোধের এক মহৎ শিক্ষা।

উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর ঘরে যখন ঘাতকরা ঢুকে পড়ল, তখন তাঁর স্ত্রী নায়েলা (রা.) নিজের চুল উন্মুক্ত করে দিলেন—যেন সেই বিদ্রোহীদের মনে ন্যূনতম পৌরুষ ও লজ্জাবোধ জাগ্রত হয়। আমিরুল মুমিনিন উসমান (রা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে ঈমানি দীপ্তিতে গর্জে উঠলেন— “তোমার ওড়না টেনে নাও! আল্লাহর কসম, তোমার চুলের অমর্যাদা হওয়ার চেয়ে ঘাতকদের হাতে আমার নিহত হওয়া অনেক সহজ!”

এই ঘটনা স্পষ্ট করে যে, সঠিক গয়রাতের স্থান হলো আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করা, সম্মান বজায় রাখা এবং আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা।

উপসংহার

নারীদের প্রবল ঈর্ষা: আয়েশা (রা.)-এর উদাহরণ ও রাসূল (সা.)-এর ধৈর্য

পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা গয়রাত বা আত্মমর্যাদাবোধের প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় দিকগুলো সম্পর্কে জেনেছি। এবার আমরা নারীদের স্বাভাবিক ঈর্ষা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) কীভাবে তা

« <
/ 351
> »