মোকাবিলা করতেন, তার কিছু দৃষ্টান্ত দেখব। বিশেষ করে আয়েশা (রা.)-এর ঘটনাগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয়।
ঘটনা ১: রাসূল (সা.)-এর অসুস্থতা ও আয়েশা (রা.)-এর গয়রাত
এক রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বিছানায় ছটফট করছিলেন, এরপর তিনি ‘জান্নাতুল বাকী’ (মদীনার প্রসিদ্ধ কবরস্থান) কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করলেন। সকালে তিনি আয়েশা (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তিনি মাথাব্যথায় কাতরাচ্ছেন এবং বলছেন— “ওহ, আমার মাথা গেল!”
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও তখন অসুস্থতা অনুভব করছিলেন, তিনি বললেন— “হে আয়েশা! বরং আমারও মাথাব্যথা (ওয়া রা’সাহ)!” আয়েশা (রা.) যখন বারবার ব্যথার কথা বলছিলেন, তখন রাসূল (সা.) রসিকতা করে বললেন— “তোমার কী ক্ষতি হতো যদি তুমি আমার আগেই মারা যেতে! তাহলে আমি নিজে তোমার জানাজা পড়াতাম, তোমাকে কাফন পরাতাম এবং দাফন করতাম!”
একথা শুনে আয়েশা (রা.)-এর গয়রাত জেগে উঠল, তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন— “ওহ! তাহলে তো আপনি আমার মৃত্যুর পর আমার ঘরে আপনার অন্য স্ত্রীদের নিয়ে আনন্দ-ফুর্তি করবেন!” একথায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারা হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তাঁর ব্যথার কষ্ট কিছুটা লাঘব হলো। [হাকেম; তিনি একে সহীহ বলেছেন]
এই ঘটনায় আমরা দেখি, রাসূল (সা.) তাঁর স্ত্রীর স্বাভাবিক ঈর্ষাকে মেনে নিয়েছেন এবং রসিকতার মাধ্যমে পরিস্থিতি হালকা করেছেন। তিনি আয়েশা (রা.)-এর কথায় বিরক্ত না হয়ে বরং হেসেছেন এবং তাঁর ব্যথাও কমেছে।
ঘটনা ২: আয়েশা (রা.)-এর ঈর্ষার স্বীকারোক্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন— “তোমার কি ঈর্ষা হচ্ছে?” তিনি উত্তরে বললেন— “আমার মতো নারী কেন আপনার মতো পুরুষের প্রতি ঈর্ষা করবে না!” [আহমদ ও মুসলিম]
এটি একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতির স্বীকারোক্তি। আয়েশা (রা.) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে, রাসূল (সা.)-এর মতো মহান পুরুষের স্ত্রী হিসেবে ঈর্ষা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
ঘটনা ৩: ভাঙা পাত্র ও রাসূল (সা.)-এর ধৈর্য
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জনৈক স্ত্রী (সাফিয়া রা.) তাঁর জন্য একটি পাত্রে করে ‘সারীদ’ (মাংস ও রুটির ঝোল) পাঠালেন। রাসূল (সা.) তখন আয়েশা (রা.)-এর ঘরে ছিলেন। আয়েশা (রা.) রাগের মাথায় খাদেমের হাতে আঘাত করলে পাত্রটি পড়ে ভেঙে গেল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত ধৈর্য ধরে সেই খাবারগুলো কুড়িয়ে আবার পাত্রে রাখতে লাগলেন এবং সাহাবীদের বললেন— “তোমরা খাও! তোমাদের মায়ের (আয়েশা) গয়রাত জেগেছে।”
রাসূল
