তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

দুজনকে শেষ করে দেব!”

স্বামী ধূর্তামি করে বলল— “আরে তুমি কী বলছ? তুমি তো গভীর ঘুমে স্বপ্ন দেখেছ!” স্ত্রী বলল— “স্বপ্ন নয়, আমি নিজের চোখে দেখেছি। আর ইসলামে তো অপবিত্র অবস্থায় কুরআন পড়া নিষেধ, তুমি দেখি কুরআন থেকে কিছু পড়তে পারো কি না!”

স্ত্রী ছিল নিরক্ষর, সে কুরআন আর সাধারণ কবিতার পার্থক্য বুঝত না। স্বামী তখন সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহার বিখ্যাত পঙক্তিগুলো কুরআনের মতো করে আবৃত্তি করল:

“রাসূলুল্লাহ আমাদের কাছে কিতাব তিলাওয়াত করেন,
সকালে যেমন উজ্জ্বল প্রভাত ফুটে ওঠে তদ্রূপ।
তিনি রাত কাটান তাঁর শয্যা থেকে পিঠ সরিয়ে,
যখন কাফেররা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে।”

এ শুনে স্ত্রী বলল— “আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম আর নিজের চোখকে মিথ্যা সাব্যস্ত করলাম (যেহেতু সে অপবিত্র অবস্থায় এটি পড়তে পেরেছে)।” এভাবেই সে যাত্রায় স্বামীটি বেঁচে গিয়েছিল।

পবিত্রতা ছাড়া কুরআন স্পর্শ করার মাসআলা নিয়ে ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন— “আল্লাহর বাণী: ‘নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা সুরক্ষিত কিতাবে (লাওহে মাহফূজ) সংরক্ষিত; পবিত্রগণ ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না’ [সূরাহ আল-ওয়াকিয়া: ৭৭-৭৯]—এখানে ‘পবিত্রগণ’ বলতে ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে। আর হাদীসে যে বলা হয়েছে ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কুরআন স্পর্শ করবে না’, সেখানে ‘পবিত্র’ মানে হলো মুমিন। কারণ সহীহ হাদীস অনুযায়ী— ‘মুমিন কখনো অপবিত্র হয় না’।”

দাম্পত্য জীবনে সঠিক গয়রাতের গুরুত্ব

আমি স্বীকার করছি, আমার জীবনের এক সময় এমন একটি পর্যায় কেটেছে। তখন আমি অল্পবয়স্ক ছিলাম। পাহাড়ি অঞ্চলের এক গ্রামে ছিল আমাদের বাড়ি। আমি আমার স্ত্রীকে পর্দা করার জন্য এমন সব কড়াকড়ি করতাম যা ছিল রীতিমতো অসম্ভব। পাহাড়ের দূর প্রান্ত দিয়ে কোনো রাখাল বা অন্য কেউ যাওয়ার সময় যেন তাকে দেখতে না পায়, সে জন্য আমি ঘরের ভেতরেও তাকে আড়ালে থাকার জন্য চাপ দিতাম। আবার যখন তাকে নিয়ে বেড়াতে বের হতাম, সে তার চেহারা খোলা রাখলে (কারণ সাজগোজহীন চেহারা তো পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়) আমি তুচ্ছ কারণে তুলকালাম কান্ড বাধিয়ে দিতাম। নিজের ও স্ত্রীর ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতাম। আসলে ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকার কারণেই এমনটি হতো।

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই উচিত ধীরস্থির ও বুদ্ধিমান হওয়া। অহেতুক সন্দেহ ও কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিয়ে শয়তানি ওয়াসওয়াসার জালে জড়িয়ে নিজের

« <
/ 351
> »