কি তোমার মেয়ের জন্য এটি পছন্দ করো?” সে বলল, “আল্লাহর কসম! না।” নবীজি বললেন— “মানুষও তাদের মেয়েদের জন্য এটি পছন্দ করে না।” এরপর তিনি বোন, ফুফু ও খালার কথা জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রতিবারই যুবকটি একই উত্তর দিল। অতঃপর নবীজি (সা.) তার বুকে হাত রেখে দোয়া করলেন— “হে আল্লাহ! ওর গুনাহ ক্ষমা করে দিন, ওর অন্তর পবিত্র করুন এবং ওর লজ্জা স্থানকে হেফাজত করুন।” এরপর সেই যুবক কখনো আর কোনো নিষিদ্ধ জিনিসের দিকে ফিরে তাকাত না। [মুসনাদে আহমাদ; মুহাদ্দিসগণ একে সহীহ বলেছেন]
উপসংহার
ব্যভিচার: শাস্তি ও এর পরিণাম
পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা ব্যভিচারের গুরুতর অপরাধ এবং এর নিকটবর্তী হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে জেনেছি। এবার আমরা ব্যভিচারের শাস্তি, এর দুনিয়াবি ও পরকালীন পরিণাম এবং এই পাপ থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “ব্যভিচারী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মুমিন থাকে না; চোর যখন চুরি করে, তখন সে মুমিন থাকে না এবং মদ্যপায়ী যখন মদ পান করে, তখন সে মুমিন থাকে না।” [সহীহ বুখারী]
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় জাফর ইবনে মুহাম্মদ (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি মাটিতে একটি বৃত্ত আঁকলেন এবং বললেন, “এটি হলো ঈমানের বৃত্ত।” এরপর তার বাইরে আরও একটি বৃত্ত এঁকে বললেন, “এটি ইসলামের বৃত্ত। বান্দা যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে ঈমানের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে যায়, তবে ইসলামের বৃত্ত থেকে বের হয় না (অর্থাৎ সে কাফের হয়ে যায় না, তবে তার পূর্ণাঙ্গ ঈমান থাকে না)।”
ব্যভিচারের কুফল ও পরিণাম
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) ব্যভিচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন— “ব্যভিচার মানুষের মাঝে সকল প্রকার মন্দ স্বভাবের সমাবেশ ঘটায়। এটি দ্বীনদারী কমিয়ে দেয়, পরহেজগারী নষ্ট করে, মনুষ্যত্ব ধূলিসাৎ করে এবং আত্মমর্যাদাবোধ (গয়রাত) বিলুপ্ত করে। প্রবঞ্চনা, মিথ্যাচার, খিয়ানত, নির্লজ্জতা, আল্লাহর নজরদারির ভয় উঠে যাওয়া এবং সতীত্বের প্রতি অবজ্ঞা—সবই এই ব্যভিচারের শাখা-প্রশাখা ও অনিবার্য ফল। ব্যভিচারীর অন্তরে আল্লাহ তাআলা এক প্রকার আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেন, তার বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে যায়। পাপাচারী যদি জানত যে চারিত্রিক পবিত্রতা ও সতীত্বের মাঝে কী পরিমাণ স্বাদ, আনন্দ, প্রশান্তি ও নির্মল জীবন লুকিয়ে আছে, তবে সে দেখত যে—সে যা হারিয়েছে তা তার অর্জিত সজ্জার চেয়ে
