সুগন্ধি ব্যবহার করে বাইরে বের হয়, অতঃপর কোনো জনসমষ্টির পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যেন তারা তার সুঘ্রাণ পায়—তবে সে একজন ব্যভিচারিণী! আর প্রত্যেক চোখই ব্যভিচারী।” [নাসায়ী, তিরমিযী ও হাকেম; হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন]
অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “যে নারী ধূপ বা সুগন্ধি ব্যবহার করল, সে যেন আমাদের সাথে এশার নামাজে শরিক না হয়।” [সহীহ মুসলিম, আবূ দাউদ ও নাসায়ী]
আরও কঠোর বাণীতে এসেছে: “যে নারী সুঘ্রাণ ছড়াতে ছড়াতে মসজিদের দিকে বের হয়, সে ঘরে ফিরে গিয়ে গোসল না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার কোনো নামাজ কবুল করবেন না।” [বায়হাকী; সূত্র: সহীহ]
ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য
মাওলানা মওদূদী (রহ.) তাঁর ‘হিজাব’ গ্রন্থে ‘সুগন্ধির ফেতনা’ শিরোনামে লিখেছেন— “সুগন্ধি হলো এক কলুষিত আত্মা থেকে অন্য কলুষিত আত্মার কাছে প্রেরিত এক দূত। এটি বার্তা আদান-প্রদানের এমন এক সূক্ষ্ম মাধ্যম যা সাধারণত প্রচলিত নৈতিক ব্যবস্থায় খুব একটা আমল দেওয়া হয় না। কিন্তু ইসলামি হায়া বা লজ্জাবোধের সংবেদনশীলতা এতই প্রখর যে, প্ররোচনার এই সূক্ষ্ম প্রভাবটিকেও সে অবহেলা করেনি। তাই কোনো মুসলিম নারীকে সুগন্ধি মেখে রাস্তা দিয়ে চলতে বা কোনো মজলিসে উপস্থিত হতে ইসলাম অনুমতি দেয় না। কারণ, নারীর রূপ ও সাজসজ্জা যদি পর্দার আড়ালে আবৃতও থাকে, তার সুগন্ধি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে পরপুরুষের আবেগ ও অনুভূতিকে নাড়া দেয়।” [পৃ. ৩১৯]
আল্লামা মুনাভী (রহ.) ‘ফায়জুল কাদীর’ গ্রন্থে বলেন— অর্থাৎ সুগন্ধি মেখে বের হওয়া নারী গুনাহের দিক থেকে ব্যভিচারিণীর মতো, যদিও মাত্রার ব্যবধান রয়েছে। কারণ কোনো কাজের কারণ যে সৃষ্টি করে, সে যেন মূল কাজটিই করল। আল্লামা তিবী বলেন— পুরুষের কামভাব জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে সুগন্ধি মেখে নারীর বাইরে বের হওয়াকে ব্যভিচারের সাথে তুলনা করা হয়েছে মূলত একে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করার এবং কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দেওয়ার জন্য।
‘প্রত্যেক চোখই ব্যভিচারী’—এর অর্থ হলো: পরনারীর বা পরপুরুষের দিকে কামনাসিক্ত দৃষ্টিতে তাকানোই চোখের ব্যভিচার। মালেকী মাযহাবের কোনো কোনো ফকীহ এই হাদীসের ভিত্তিতে পরনারীর সুগন্ধি থেকে তৃপ্তি নেওয়াকেও হারাম বলেছেন। কারণ আল্লাহ যখন কোনো কিছু হারাম করেন, তখন শরীয়ত তার কাছাকাছি বিষয়গুলো থেকেও মানুষকে দূরে রাখে। সালাফদের কেউ কেউ এ ব্যাপারে এতটাই কঠোর ছিলেন যে, ইবনে উমর (রা.) কোনো নারী যে স্থানে বসেছিলেন, সেই স্থানটি
