তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

জামাত (মুসলিম উম্মাহ) ত্যাগ করল, নেতার অবাধ্য হলো এবং সেই অবাধ্য থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল। ২. ওই দাস বা দাসী যে তার মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে গেল এবং পলাতক অবস্থায় মারা গেল। ৩. আর ওই নারী যার স্বামী তাকে দুনিয়ার যাবতীয় খরচপত্র দিয়ে দূরে ভ্রমণে গেল, এরপরও সে তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দা হয়ে সাজসজ্জা প্রদর্শন করে বাইরে বের হলো—এই তিন প্রকার মানুষ সম্পর্কে তুমি আর কিছু জিজ্ঞেস করো না।” [মুসনাদে আহমাদ, আদাবুল মুফরাদ, হাকেম; হাকেম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন]
এই হাদীসে স্বামীর অনুপস্থিতিতে বেপর্দা হয়ে সাজসজ্জা প্রদর্শন করাকে জামাত ত্যাগ ও পলাতক দাসের সাথে একই কাতারে রাখা হয়েছে। এটি এই অপরাধের গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বুঝিয়ে দেয়।

জাহান্নামী দুই দল
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন— “জাহান্নামবাসী দুটি দল রয়েছে যাদের আমি এখনও দেখিনি: ১. এমন এক সম্প্রদায় যাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে এবং তারা তা দিয়ে মানুষকে প্রহার করবে। ২. আর ওই সব নারী যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ, যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের মস্তক হবে (উঁচু করে বাঁধা চুলের কারণে) বুখতি উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না; যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।” [সহীহ মুসলিম]

ইবনে আবদিল বার (রহ.) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন— “রাসূলুল্লাহ (সা.) এখানে ওই সব নারীর কথা বুঝিয়েছেন যারা এমন পাতলা ও সূক্ষ্ম কাপড় পরিধান করে যা শরীরকে আবৃত করার বদলে বরং শরীরের গঠন ফুটিয়ে তোলে। ফলে তারা নামেমাত্র কাপড় পরিহিত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে উলঙ্গ।”
ডা. মুহাম্মদ রিযার সহধর্মিণীর ‘আত-তাবাররুজ’ নামক প্রবন্ধে এসেছে— “যে নারী সেজেগুজে নববধূর বেশে নিজের অন্তঃপুর ছেড়ে রাস্তাঘাটে বের হয়, তার অবয়ব যেন চিৎকার করে বলতে থাকে: ‘তোমরা কি এই রূপ-লাবণ্য দেখবে না? কেউ কি আছো আমার সান্নিধ্য ও মিলন প্রত্যাশী?’ সে যেন রাস্তার বাজারে নিজের রূপের প্রদর্শনী করছে—ঠিক যেমন একজন ভ্রাম্যমাণ হকার তার পণ্য প্রদর্শন করে। কিংবা একজন মিষ্টি বিক্রেতা যেমন উজ্জ্বল রঙ আর চকচকে মোড়কে তার মিষ্টান্ন সাজিয়ে রাখে যাতে মানুষের নজর কাড়া যায়, নফসকে প্রলুব্ধ করা যায় এবং ক্ষুধা জাগিয়ে তোলা যায়; ফলে তার পণ্যের

« <
/ 351
> »