তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সংগঠনগুলোকে অর্থ দিয়ে এবং রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব খাটিয়ে স্বাধীনচেতা বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ‘প্রগতি’ ও ‘উন্নতি’-র দোহাই দিয়ে সমাজে অশ্লীলতা ও নৈতিক স্খলনের বিষ ছড়িয়ে দেওয়া—যে প্রগতি মূলত ধ্বংসের অতল গহ্বরের দিকে যাত্রা।

হাদীসে এসেছে— আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: আসমা বিনতে আবী বকর (রা.) একবার পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন— “হে আসমা! নারী যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তার শরীরের এই এবং এই অংশ ছাড়া অন্য কিছু দেখা যাওয়া সংগত নয়—এই বলে তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজির দিকে ইশারা করলেন।” [হাদীসটির একাধিক সূত্র থাকায় এটি ‘হাসান’ পর্যায়ের]
বেপর্দা চলাফেরার বিধান ও কঠোর সতর্কবাণী
পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা পর্দা ও শালীনতার গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছি। এবার আমরা বেপর্দা চলাফেরার (তাবাররুজ) সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদীস ও তাদের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করব। ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই পোশাক-আশাকের ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে এবং এর সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

নারীর পোশাকের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে নির্দেশনা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন— “যে ব্যক্তি অহংকারবশত নিজের কাপড় (পায়ের গিরার নিচে) ঝুলিয়ে মাটির সাথে টেনে টেনে চলে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।” তখন উম্মু সালামাহ (রা.) আরজ করলেন, “তবে নারীরা তাঁদের কাপড়ের নিচের দিকের অংশ (ঝুল) কীভাবে রাখবে?” রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন— “তারা এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে।” তিনি পুনরায় আরজ করলেন, “এতে তো তাঁদের পায়ের পাতা উন্মুক্ত হয়ে পড়বে!” রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন— “তবে তারা এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়।” [সুনান গ্রন্থকারগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন; শব্দবিন্যাস তিরমিযীর]

এই হাদীসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম নারী-পুরুষের পোশাকের ব্যাপারে যেমন নির্দেশনা দিয়েছে, তেমনি নারীদের জন্য কিছু বিশেষ ছাড়ও দিয়েছে। পুরুষদের জন্য পায়ের গিরার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা নিষিদ্ধ, কিন্তু নারীদের জন্য প্রয়োজনের তাগিদে এক হাত পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের পায়ের পাতা আবৃত থাকে।

তিন প্রকার ভয়াবহ পরিণতির মানুষ
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন— “তিন প্রকার ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি আর কিছু জিজ্ঞেস করো না (অর্থাৎ তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ)! ১. যে ব্যক্তি

« <
/ 351
> »