তাদের স্বাধীনতার অন্তরায় মনে করতে পারে। কারণ তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসারী এবং আবেগের বশবর্তী। অথচ মিশরের ‘আল-জুমহুরিয়া’ পত্রিকায় (৯ জুন ১৯৬২) একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল যার শিরোনাম ছিল: “মার্কিন লেখিকা বলছেন—অবাধ মেলামেশা বন্ধ করো এবং নারীর অবাধ স্বাধীনতায় লাগাম টানো।”
লেখিকার নাম হেলসিয়ান স্ট্যানসবেরি (Helsian Stansbury)। তিনি একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। তিনি মিশরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, যুব ক্যাম্প এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে বলেছিলেন— “আরব সমাজ একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ সমাজ। এই সমাজের উচিত তাদের সেই ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরা যা যুবক-যুবতীদের স্বাধীনতার একটি যুক্তিসঙ্গত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আপনাদের এমন ঐতিহ্য আছে যা পশ্চিমা দেশগুলোর সেই অবাধ যৌনাচারকে রুখে দেয়, যা আজ ইউরোপ ও আমেরিকার সমাজ ও পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাই আমি আপনাদের উপদেশ দিচ্ছি—আপনারা আপনাদের ঐতিহ্য ও নৈতিকতাকে আঁকড়ে ধরুন, অবাধ মেলামেশা বন্ধ করুন, নারীদের অবাধ স্বাধীনতার লাগাম টেনে ধরুন, এমনকি প্রয়োজনে পর্দার যুগে ফিরে যান। আমেরিকান সমাজ আজ এক জটিল সংকটে জর্জরিত, যা অশ্লীলতা ও নগ্নতায় পরিপূর্ণ। অবাধ মেলামেশা ও বিশৃঙ্খল স্বাধীনতার বলি হয়ে বিশ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা আজ জেলখানা, ফুটপাত, মদের আড্ডা আর গোপন পতিতালয়গুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। আমরা আমাদের সন্তানদের যে তথাকথিত স্বাধীনতা দিয়েছি, তা তাদের কিশোর গ্যাং, অপরাধী চক্র এবং মাদক ও মানব পাচারকারীর দলে পরিণত করেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার এই অবাধ মেলামেশা আর নৈতিক স্খলন আজ পরিবারগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং নৈতিক মূল্যবোধকে তছনছ করে দিচ্ছে।”
কাসিদায়ে বুরদাহ নিয়ে একটি সতর্কতা
প্রসঙ্গক্রমে কাসিদায়ে বুরদাহ-র উল্লেখ আসায় একটি বিষয়ে সতর্ক করা জরুরি মনে করছি। এই কাসিদার কিছু পঙ্ক্তি তওহীদ বা একত্ববাদের পরিপন্থী, তাই সেগুলো পড়া জায়েজ নয়। যেমন—নবীজী (সা.)-এর কাছে এমনভাবে উদ্ধার প্রার্থনা করা যা কেবল আল্লাহর কাছেই শোভা পায়:
“হে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা! মহাবিপদের দিনে আপনার আশ্রয় ছাড়া আমার আর কোনো আশ্রয় নেই।”
অথচ নবীজী (সা.) স্বয়ং বলেছেন— “যখন কিছু চাইবে, আল্লাহর কাছেই চাইবে; আর যখন সাহায্য চাইবে, আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে।” সাহায্য চাওয়া একটি দোয়া, আর দোয়া হলো ইবাদত। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করা ভয়াবহ শিরক।
আবার এই কাসিদায় নবীজী (সা.)-কে অদৃশ্যের জ্ঞাতা (গায়েব জাননেওয়ালা) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে: “লাওহে মাহফুজ
