এক ডাহা মিথ্যাচার, যা বাস্তব জীবনই অস্বীকার করে। আমি জনৈক মিশরীয় মনোবিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম যিনি এই ভ্রান্ত তত্ত্বে বিশ্বাসী। আমি তাকে বললাম— “যদি আপনার এই তত্ত্ব সঠিক হতো, তবে স্বামী-স্ত্রীর সার্বক্ষণিক মেলামেশার ফলে তাদের মাঝে যৌন অনীহা তৈরি হতো; অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত।”
তদুপরি, পশ্চিমে অবাধ মেলামেশা তার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে নারী ও পুরুষেরা—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—পশুদের মতো কামাসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে পারিবারিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে বা হওয়ার পথে। যারা দাবি করেন যে মেলামেশা অনুভূতিকে সুক্ষ্ম করে বা অবদমিত শক্তিকে মুক্তি দেয়—তাদের দাবিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, ইউরোপে এই অবাধ মেলামেশার ফলেই নৈতিক অবক্ষয় চরম সীমায় পৌঁছেছে। এক পুরনো পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমেরিকার কোনো কোনো শহরের হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রীদের শতকরা ৪৮ ভাগ বছরে গর্ভবতী হয়ে পড়ে! মেলামেশা বাড়ার সাথে সাথে এই হারও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আজ সেখানে উত্তাল প্রবৃত্তির আঘাতে পরিবারগুলো চূর্ণবিচূর্ণ। অবাধ মেলামেশার সমাজে স্বামী-স্ত্রীরা নতুন নতুন নারী ও পুরুষের মাঝে নতুনত্ব খোঁজে, ফলে শুরু হয় পরকীয়া ও নতুনের নেশা। ঘরবাড়িগুলো খড়কুটোর মতো উড়তে থাকে। তারা একে অপরকে একটি পুরোনো আসবাবপত্র বা নতুন ফ্যাশনের টাই-এর মতো মনে করে।
জনৈক চিন্তাবিদ ফাতহি ইয়াকুন বলেন— “স্বীকার করতেই হবে যে, মানুষের প্রবৃত্তি উদ্দীপক বা প্রশান্তকারক জিনিসের প্রভাবে বাড়ে বা কমে। যার সামনে রকমারি মশলাযুক্ত খাবার থাকে, তার রুচি সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি থাকে যার সামনে এসব নেই। এটি দিন দিন তার খাদ্যের চাহিদাকে বাড়িয়ে দেয়।”
মিশরীয় অর্থনীতিবিদের পর্যবেক্ষণ
মিশরীয় অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ তালাত হারব তাঁর ‘আল-মারআতু ওয়াল হিজাব’ (নারী ও পর্দা) গ্রন্থে লিখেছেন— পর্দা তুলে দেওয়া এবং অবাধ মেলামাশার প্রচলন করা—এ উভয়ই ইউরোপের দীর্ঘকালের এক লালিত স্বপ্ন। ইউরোপ মুসলিম বিশ্বকে নিয়ে যে অশুভ উদ্দেশ্য পোষণ করে, তা যারাই পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা এই সত্যটি উপলব্ধি করতে পারেন। তিনি আরও বলেন— পূর্বদেশীয় মুসলিম সমাজকে ধ্বংস করার আর কোনো অন্তরায় বাকি নেই—তা কেবল মিশরেই নয়, বরং পুরো প্রাচ্যেই—যদি না মুসলিম নারীদের মাঝে সেই পরিবর্তন বা পচন ধরানো যায় যা পশ্চিমা নারীদের গ্রাস করেছে এবং আজ যা মহাবিপদের সংকেত দিচ্ছে।
একজন মার্কিন লেখিকার সতর্কবার্তা
আজকের তরুণ-তরুণীরা হয়তো পর্দার এই বিধিনিষেধ দেখে অবাক হতে পারে, এমনকি একে
