তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ও কলমের জ্ঞান তো আপনারই জ্ঞানের অংশ।” অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন— “অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই কাছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না।” [সূরাহ আল-আনআম: ৫৯]। নবীজী (সা.)-কেও বলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— “আমি যদি গায়েব জানতাম, তবে অনেক কল্যাণ জমা করে নিতাম।” [সূরাহ আল-আ’রাফ: ১৮৮]
তাই আমি মুসলিম পরিবারগুলোকে এই কাসিদা পড়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এই কাসিদা সম্পর্কে যে সব অলৌকিক গল্প প্রচলিত আছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। যারা প্রকৃত জ্ঞানের দাবিদার, তাদের উচিত শিরক ও অজ্ঞতা থেকে দূরে থাকা।
উপসংহার: ইসলামই শান্তির একমাত্র পথ
সাবধান হে স্ত্রী!

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “কোনো নারী যেন অন্য নারীকে (শরীরের স্পর্শে) স্পর্শ না করে, অতঃপর সে যেন তার স্বামীর কাছে ওই নারীর এমনভাবে রূপবর্ণনা না করে, যেন তার স্বামী তাকে স্বচক্ষে দেখছে।” [মুসনাদে আহমাদ, সহীহ বুখারী, সুনানে আবূ দাউদ ও সুনানে তিরমিযী; হাদীসটি সহীহ]

নবীজী (সা.)-এর এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীরে লুকায়িত সেই সব রহস্যের জানান দেয়, যেখানে মানুষ অনেক সময় কেবল শোনার মাধ্যমেই কারো প্রেমে পড়ে যায়। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; কারণ মহান আল্লাহ বলেন— {তিনি (রাসূল) আপন প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।}

রূপবর্ণনার এই বিপদের কথা উল্লেখ করে এক কবি বলেছেন—

“হে সেই জন! যার রূপের বর্ণনায় আমি বিভোর, অথচ তাকে দেখিনি,
তোমার বর্ণনায় আজ আমি আত্মহারা—হৃদয় কি আর মানে?
যারে আমার আঁখি কভু দেখেনি নয়ন ভরে,
রূপের সে বর্ণনায় কেন আজ মন এমন করে!”

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন— “প্রেমের অনুঘটক বা কারণ চারটি: এর প্রথমটি হলো দেখা; হয় চোখের মাধ্যমে দেখা, নতুবা হৃদয়ের মাধ্যমে—যদি তার সামনে কারো রূপবর্ণনা করা হয়। এমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্যকে না দেখেই কেবল তার রূপের বর্ণনা শুনে তার প্রেমে অন্ধ হয়ে যায়! এ কারণেই নবীজী (সা.) কোনো নারীকে তার স্বামীর কাছে অন্য নারীর বর্ণনা দিতে নিষেধ করেছেন—যাতে স্বামীর মনে এমন চিত্র ফুটে না ওঠে যেন সে তাকে সরাসরি দেখছে।” [রওজাতুল মুহিব্বীন, পৃ. ৮৮]

‘তুহফাতুল আরূস’ গ্রন্থের লেখক এ বিষয়ে বলেন— “নারী যদি পবিত্রাও হয় এবং তার থেকে কোনো

« <
/ 351
> »