তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

দ্বীনের ক্ষেত্রে এই বিপর্যয়ই সবচেয়ে ক্ষতিকর। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন—”অতীতের যারা কাফের হয়েছে তারা নারীদের কারণেই হয়েছে, আর ভবিষ্যতে যারা কুফরিতে লিপ্ত হবে তারাও নারীদের কারণেই হবে!”
আরেকটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “হাওওয়া (আ.) না থাকলে কোনো নারীই কোনোদিন তার স্বামীর সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করত না!” [সহীহ মুসলিম]
ইমাম মুনাভী ‘ফয়জুল ক্বাদীর’ গ্রন্থে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো: অর্থাৎ হাওয়া (আ.) যদি আদমের (আ.) হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে (নিষিদ্ধ) বৃক্ষের ফল ভক্ষণের মাধ্যমে আদেশ লঙ্ঘনে প্ররোচিত না করতেন, তবে কোনো নারীই তার স্বামীর সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করত না। কারণ তিনি নারীজাতির আদিমাতা, তাই পরবর্তী নারীরা তাঁরই স্বভাবপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি যদি এই রীতির সূচনা না করতেন, তবে কোনো নারীই স্বামীর সাথে এমন আচরণ করত না। তিনি যখন ভুল করলেন, সেই প্রভাব তাঁর কন্যাদের মাঝেও সঞ্চারিত হলো। ফলে খুব কম নারীই পাওয়া যায় যারা কথা বা কাজে স্বামীর সাথে সামান্যতম অমিল বা বিশ্বাসভঙ্গ থেকে মুক্ত থাকে।
এখানে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বা খেয়ানত বলতে জিনা (ব্যভিচার) বোঝানো হয়নি—নাউযুবিল্লাহ, কখনোই নয়। বরং হাওয়া (আ.) যখন নিজের নফসের চাহিদার দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন এবং ইবলিসের প্ররোচনায় সেই বৃক্ষের ফল খাওয়ার বিষয়টি আদমের (আ.) সামনে সুশোভিত করেছিলেন, সেটিকেই তাঁর পক্ষ থেকে ‘খেয়ানত’ বা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর তাঁর পরবর্তী নারীদের খেয়ানত হয় তাদের নিজ নিজ অবস্থা ভেদে।
এই হাদীসে পুরুষদের জন্য একটি সান্ত্বনা রয়েছে যে, তাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঘটে গেলে তারা যেন মনে রাখে যে এটি তাদের আদিমাতা থেকেই প্রাপ্ত স্বভাব। স্বভাবের প্রভাব অতি গভীরে প্রোথিত থাকে। তাই কোনো নারী যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা কদাচিৎ কোনো ভুল করে ফেলে, তবে তাকে অতিরিক্ত তিরস্কার করা উচিত নয়।
একই সাথে নারীদের উচিত নয় এই হাদীসকে পুঁজি করে নিজেদের ভুল পথে পরিচালিত করা। বরং তাদের উচিত নিজেদের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা; যেন তারা আল্লাহর কাছে মহাপুরস্কার এবং স্বামীর কাছে উচ্চমর্যাদা লাভ করতে পারে।
নারীর দ্বৈত সত্তা ও তার গুরুত্ব
একজন লেখক নারী সম্পর্কে অত্যন্ত চমৎকারভাবে লিখেছেন—জীবন যেদিকেই পা বাড়াক না কেন, প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনেই নারীর অস্তিত্ব বিদ্যমান। তিনি যেমন দুঃখের কারণ হতে পারেন, তেমনি

« <
/ 351
> »