তাই মায়ের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং এ বিষয়ে তাগিদ দেওয়ার জন্য নবীজী (সা.) তিনবার মায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এই হাদীসের অর্থ এই নয় যে, পিতাকে মায়ের চেয়ে তুচ্ছ করা হয়েছে।
অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“সেই ব্যক্তি কলঙ্কিত হোক (নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক), যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা তাঁদের একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পেল, অথচ জান্নাতে দাখিল হতে পারল না।” [সহীহ মুসলিম ও তিরমিযী]
পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হওয়া চরম দুর্ভাগ্য ও ধ্বংসের লক্ষণ। কেননা পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত, আর তাঁদের অসন্তুষ্টিতেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি। তাঁদের এই মর্যাদা ও মহিমা অনুধাবনের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁদের সন্তুষ্টিই হলো জান্নাত। যদি কোনো সন্তান তা অর্জন করতে পারে, তবেই সে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর মায়েদের অবাধ্য হওয়া হারাম করেছেন।” [সহীহ বুখারী]
যে যুগে মায়েদের অবাধ্যতা, তাঁদের প্রতি নিষ্ঠুরতা ও উদাসীনতা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে… সেই যুগের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।
উপসংহার
নারী: প্রভাব ও সতর্কতা
পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা পিতা-মাতার অধিকার ও নারীর মর্যাদা সম্পর্কে জেনেছি। এবার আমরা নারী সম্পর্কে ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করব। নারী যেমন রহমত ও ভালোবাসার উৎস, তেমনি তার প্রভাব এতটাই গভীর যে, তিনি পরীক্ষা ও ফিতনার কারণও হতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা (পরীক্ষা) আমি রেখে যাইনি।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল। আর আল্লাহ তোমাদেরকে সেখানে খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন, যেন তিনি দেখতে পারেন তোমরা কেমন আমল করো। অতএব, তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো এবং নারী সংক্রান্ত ফিতনা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা বা বিপর্যয় নারীদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।” [সহীহ মুসলিম]
আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান তাঁর ‘হুসনুল উসওয়াহ’ গ্রন্থে লিখেছেন—নারীদের অধিক ক্ষতিকর হওয়ার দিকটি হলো: মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তাদের প্রতি প্রবলভাবে ঝুঁকে থাকে। ফলে মানুষ তাদের জন্য হারামে লিপ্ত হয় এবং তাদের কারণেই যুদ্ধ-বিগ্রহ ও শত্রুতায় মেতে ওঠে। এর ন্যূনতম প্রভাব হলো—স্ত্রী স্বামীকে দুনিয়ার প্রতি অতিশয় লোভী করে তোলে; আর
