তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

অত্যন্ত কষ্টের সাথে তাকে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধ ছাড়াতে সময় লাগে ত্রিশ মাস।” [সূরাহ আল-আহক্বাফ: ১৫]
সন্তান মূলত মায়েরই একটি অংশ। মা তাকে নিজের জঠরে ধারণ করেছেন এবং নিজের রক্ত-মাংস দিয়ে তিলে তিলে পুষ্ট করেছেন। অতঃপর সন্তান যখন পৃথিবীতে এল, তখন তিনি তাকে পরম মমতায় বুকে আগলে নিলেন, নির্ঘুম রাত কাটালেন এবং নিজের জীবনের প্রতিটি স্পন্দন সন্তানের সাথে বেঁধে নিলেন। মা হাসিমুখে এই সমস্ত ভার ও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। সুতরাং, যে মা সন্তানের জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিলেন, সন্তানের সুখের তরে নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করলেন—মানুষ কি কোনোভাবে সেই ত্যাগী মাকে ভুলে যেতে পারে? মায়ের সেই আজন্ম সংগ্রাম আর যাতনা কি সন্তানের কাছে তুচ্ছ হতে পারে? তাই কুরআন মাজীদ জীবনের সেই পর্যায়টির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা মানুষের স্মৃতিতে থাকে না—অথচ এটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় সময়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে মায়ের সেই আত্মত্যাগ ও বিসর্জনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেন মানুষ সবসময় তা চোখের সামনে রাখে এবং সেই আলোকেই মায়ের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে।
হাদীসে পিতা-মাতার মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (সা.) পিতা-মাতার মর্যাদা ও তাদের অধিকার সম্পর্কে অসংখ্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এক হাদীসে বলেন:
“আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় গুনাহগুলো (কবিরা গুনাহ) সম্পর্কে জানাব না?” আমরা বললাম, “অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!” তিনি বললেন—”আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।” [সহীহ বুখারী]
এ কারণেই পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং তাঁদের ইহসান বা উপকারের কথা অস্বীকার করা এমন এক জঘন্যতম গুনাহ, যা কোনো মুমিনের জন্য শোভা পায় না।
এক ব্যক্তি নবীজী (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার কে?” তিনি বললেন—”তোমার মা!” লোকটি বললেন, “তারপর কে?” তিনি বললেন—”তোমার মা!” লোকটি আবার বললেন, “তারপর কে?” তিনি বললেন—”তোমার মা!” লোকটি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর কে?” এবার তিনি বললেন—”তোমার পিতা।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
এর কারণ হলো—সন্তান তার জন্য তার পিতার পরিশ্রম, তদারকি এবং অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিজের চোখে দেখতে পায়; কিন্তু মায়ের সেই গর্ভধারণের কষ্ট এবং দোলনায় থাকাকালীন মায়ের সেই নিরলস সেবার বিষয়টি সে দেখতে পায় না।

« <
/ 351
> »