পেতে দাও এবং বলো—হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” [সূরাহ আল-ইসরা: ২৩-২৪]
এখানে ‘ক্বাযা’ (قضى) শব্দের অর্থ হলো—আদেশ দিয়েছেন বা ফয়সালা করেছেন। আর এই আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ইসলাম পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, কোমলতা, সেবা ও দয়া প্রদর্শনকে সন্তানের ওপর অপরিহার্য করে দিয়েছে। এই অধিকারের গুরুত্ব এতই বেশি যে, আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের নির্দেশের সাথে পিতা-মাতার প্রতি ইহসানের নির্দেশকে যুক্ত করেছেন।
শেষের দোয়াটি আসলে সেই মানুষের প্রতি সহজাত কৃতজ্ঞতাবোধের বহিঃপ্রকাশ, যাঁর উপকারে কোনো স্বার্থ ছিল না এবং যাঁর নিরন্তর সংগ্রামের পেছনে কোনো পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছিল না। বরং তাঁরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি আর হৃদয়ের টানেই সন্তানকে সীমাহীন মমতা ও পরম যত্নে আগলে রেখেছেন। অতএব, অকৃতজ্ঞতার অভিশাপ থেকে মানবতাকে রক্ষা করতে এবং আনুগত্যের দাবি রক্ষার্থে তাঁদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ন্যূনতম কর্তব্যের শামিল।
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে বলেন:
“আর যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ৮৩]
এটি প্রমাণ করে যে, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ শুধু মুসলিমদের জন্যই নয়, বরং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের জন্যই ছিল আল্লাহর অপরিহার্য নির্দেশ। এটি মানবতার চিরন্তন মূল্যবোধের অংশ।
উপসংহার
পিতা-মাতার অধিকার ও মায়ের মর্যাদা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের গুরুত্ব আরও গভীরভাবে তুলে ধরে বলেন:
“আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। (নির্দেশ দিয়েছি যে,) আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতিও; আমারই কাছে (তোমাদের) ফিরে আসতে হবে।” [সূরাহ লোকমান: ১৪]
ইসলাম বিশেষ করে মায়ের ব্যাপারে অত্যন্ত জোরালো তাগিদ দিয়েছে, যেন তাঁর অধিকারকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা না হয়। মা এমন এক মহান সত্তা, যাঁর অনুগ্রহ ও দয়া অতুলনীয়; তাঁর কষ্ট ও ত্যাগের ঋণ কোনো কৃতজ্ঞতা বা প্রতিদান দিয়েই শোধ করা সম্ভব নয়।
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অত্যন্ত কষ্টের সাথে গর্ভে ধারণ করেছে এবং
