যে নিজের সন্তানের প্রতি দয়াহীন, সে আমার কাজ করার যোগ্য নয়!”
এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও রাসূলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সেনাপতিদের প্রতি অন্যতম ওসিয়ত করেছিলেন—”আল্লাহর নামে যুদ্ধ করো, তবে (শত্রুপক্ষের) কোনো শিশুকে হত্যা করো না।” [সহীহ মুসলিম]
নবীজী (সা.) নিজেও সন্তানদের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন। উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন—আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাকে এক উরুর ওপর এবং হাসান (রা.)-কে অন্য উরুর ওপর বসাতেন। এরপর আমাদের দুজনকে জড়িয়ে ধরে বলতেন—”হে আল্লাহ! আপনি এদের ওপর দয়া করুন, কারণ আমিও এদের ওপর দয়া করি।” [সহীহ বুখারী]
শুধু নিজ সন্তান নয়, এমনকি গোলাম-বাঁদীদের প্রতিও সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন—আমি একদা আমার গোলামকে চাবুক দিয়ে মারছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম—“হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি এই গোলামের ওপর যতটুকু ক্ষমতা রাখো, আল্লাহ তোমার ওপর তার চেয়েও বেশি ক্ষমতা রাখেন!” আমি তাকিয়ে দেখি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.)। [সহীহ মুসলিম]
উপসংহার
সন্তানদের প্রতি স্নেহ-মমতা ও কঠোরতার পরিণাম
পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা সন্তানদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সমতা রক্ষার বিষয়ে জেনেছি। এবার আমরা সন্তানদের প্রতি স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসার গুরুত্ব এবং কঠোর আচরণের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করব। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আমাদের জন্য এ বিষয়ে সর্বোত্তম আদর্শ।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্নেহ-মমতার দৃষ্টান্ত
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর খাদেমকে জিজ্ঞেস করতেন—”তোমার কি কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে?” [সহীহ বুখারী] এটি একটি ছোট্ট ঘটনা, কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা নবীজীর অসাধারণ মানবিক গুণের পরিচয় পাই। তিনি তাঁর অধীনস্থদের খোঁজ-খবর নিতেন, তাদের প্রয়োজন বুঝতে চাইতেন। এই সহজ প্রশ্নটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে একজন স্নেহশীল অভিভাবকের চিত্র।
পূর্বোক্ত হাদীসগুলো থেকে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, শিশুদের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর মমতা কত গভীর ছিল! মা-বাবার জন্য এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া কতই না জরুরি। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, অনেক মা-বাবা সন্তানদের সাথে অতিশয় দুর্ব্যবহার করেন। তুচ্ছ কারণে নির্দয়ভাবে তাদের প্রহার করেন। এমনকি কেউ কেউ তাদের খেলাধুলা করতে দেন না, ন্যূনতম স্বাধীনতাটুকুও দেন না এবং কথায় কথায় অপমান করেন। এর ফলে শিশুদের ব্যক্তিত্ব খর্ব হয়, তারা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জীবনে সফল হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।
রাসূলুল্লাহ
