(সা.) আনসারদের বাড়িতে যেতেন। তিনি যখন সেখানে পৌঁছাতেন, আনসারদের ছোট ছোট শিশুরা তাঁকে ঘিরে ধরত। তিনি তাদের জন্য দোয়া করতেন, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং তাদের সালাম দিতেন। [মুসনাদে আহমাদ; সনদ সহীহ] শিশুদের প্রতি নবীজী (সা.)-এর এই যে অনুপম স্নেহ ও সদাচার—আশা করি তা সেই সব কঠোর হৃদয়ের মা-বাবার জন্য এক বিরাট শিক্ষা হবে, যারা সন্তানদের সাথে দাস বা পশুর মতো আচরণ করেন। এমন রূঢ় ব্যবহারে সন্তানের ব্যক্তিত্ব ভেঙে পড়ে, তারা হীনম্মন্যতায় ভোগে এবং মনে মনে মা-বাবার প্রতি চরম ঘৃণা পোষণ করে; যার ফলে অনেক সময় তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বিপথে চলে যায়।
একটি শিক্ষণীয় ও হৃদয়বিদারক ঘটনা
মা-বাবাকে তরবিয়ত বা সন্তান প্রতিপালনের নিয়মাবলি শেখার গুরুত্ব বোঝাতে আমি নিচে একটি শিক্ষণীয় ও হৃদয়বিদারক ঘটনা উল্লেখ করছি:
সংবাদে এসেছে—এক পুলিশ সদস্য অনেক কৃচ্ছ্রসাধন করে টাকা জমিয়ে নিজের ঘরের জন্য এক সেট মূল্যবান সোফা কিনলেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী এতে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। একদিন তাঁদের অসতর্কতার সুযোগে ছোট শিশুটি একটি ব্লেড দিয়ে সেই নতুন সোফার গদি কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলল। বাবা যখন এই দৃশ্য দেখলেন, রাগে তাঁর হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে গেল। তিনি একটি শক্ত লাঠি দিয়ে শিশুটির আঙুলে নির্দয়ভাবে আঘাত করতে লাগলেন। পরদিন সকালে শিশুটির আঙুলগুলো ফুলে বিষিয়ে গেল। ডাক্তার পরীক্ষা করে আঙুলগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং হাসপাতালে সেগুলো কেটে ফেলা হলো।
অপারেশনের পর বাবা যখন ছেলেকে দেখতে গেলেন, তখন শিশুটি আর্তনাদ করে বলল, “বাবা! ও বাবা! আমার আঙুলগুলো আমাকে ফিরিয়ে দাও, আমি আর কোনোদিন সোফা কাটব না।” ছেলের এই করুণ আকুতি শুনে বাবা সহ্য করতে পারলেন না; তিনি নিজের পিস্তল দিয়ে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করলেন।
এই ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। একটি সোফার মূল্য এবং একটি শিশুর আঙুলের মূল্য—তুলনাটাই কত বড়! আমরা যদি সামান্য ধৈর্য ধরতাম, সন্তানকে বুঝিয়ে বলতাম, তাহলে এমন পরিণতি এড়ানো যেত। আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিত—খাবারের যেমন প্রয়োজন, শিশুর জন্য ভালোবাসা ও মমতার প্রয়োজন ঠিক ততটাই। ভালোবাসার ছায়াতলেই একটি শিশুর মন ও ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়। কবি কতই না সুন্দর বলেছেন—
“আমাদের সন্তানরা তো আমাদেরই কলিজার টুকরো,
যারা মাটির ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়।
তাদের কারো
