তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

করে। অথচ দেখা যায়, যে শিশুকে সাত-আট মাস আগে থেকেই নতুন মেহমান আসার বিষয়ে জানানো হয় এবং মানসিকভাবে তৈরি করা হয়, তার মনে এই হিংসার প্রকোপ অনেক কম থাকে। ঠিক এ কারণেই যমজ সন্তানদের মাঝে হিংসা খুব একটা দেখা যায় না।
গবেষকদের মতে, শিশুদের মনে হিংসা উদ্রেকের সবচেয়ে বড় কারণ হলো—এক ভাই বা বোনকে অন্যজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং তাদের সামনেই রূপ, মেধা, চটপটে ভাব বা পড়াশোনা নিয়ে একজনের সাথে অন্যজনের তুলনা করা। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মেয়ে শিশুদের মাঝে হিংসার প্রবণতা ছেলেদের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং মেধাবী শিশুদের মাঝে এর হার আরও উচ্চ।
মা-বাবার আরেকটি বড় ভুল হলো—অসুস্থ সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে অন্য সন্তানদের একদম অবহেলা করা। এতে সুস্থ শিশুটি নিজেকে তুচ্ছ মনে করতে থাকে এবং ভাবতে থাকে অসুস্থ হওয়াই বুঝি বাবা-মায়ের প্রিয় হওয়ার একমাত্র উপায়। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হলো—সুস্থ সন্তানকেও অসুস্থ ভাই বা বোনের সেবায় অংশীদার করা। এছাড়াও আগত মেহমানরা যখন অন্য শিশুদের সামনে কেবল একটি শিশুর মেধা বা চেহারার প্রশংসা করে, তখন থেকেই হিংসার জন্ম হয়। এমন ঘটনা বারবার ঘটলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
সন্তানদের প্রতি মমত্ববোধের আবশ্যকতা
সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ শুধু একটি মানবিক গুণ নয়, বরং এটি ঈমানেরও অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: “দয়াশীলদের ওপর পরম দয়াময় (আল্লাহ) দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের ওপর দয়া করো, তবে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন।” [সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযী; হাদীসটি সহীহ]
আনাস (রা.) বলেন—”আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে পরিবার-পরিজনের প্রতি অধিক দয়াশীল আর কাউকেও দেখিনি।” [সহীহ মুসলিম] নবীজী (সা.)-এর এই মহান আদর্শ সাহাবীগণের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং পাষাণ হৃদয়কেও নরম করে দিয়েছিল। বর্ণিত আছে যে—উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বনু আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তিকে কোনো কাজের দায়িত্ব দিলেন। সে যখন দায়িত্বের সনদ নিতে এল, তখন উমর (রা.) তাঁর এক সন্তানকে কাছে ডেকে চুমা খেলেন। আসাদী লোকটি অবাক হয়ে বলল, “হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি একে চুমা খেলেন? আল্লাহর কসম! আমি আমার কোনো সন্তানকে কোনোদিন চুমা খাইনি!” তখন উমর (রা.) বললেন, “তবে তো তোমার হৃদয়ে মানুষের জন্য দয়া অনেক কম। আমার নিয়োগপত্র ফিরিয়ে দাও;

« <
/ 351
> »