সাক্ষী রাখার আদেশ দিয়েছে।” নবীজী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন—“তোমার অন্য সন্তানদেরও কি এমন উপহার দিয়েছ?” তিনি বললেন, “না।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন—“আল্লাহকে ভয় করো এবং সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা করো! আমাকে সাক্ষী রেখো না… কারণ আমি কোনো জুলুমের সাক্ষী হই না!” [সহীহ বুখারী]
একটি ঘটনায় আমরা আরও স্পষ্টভাবে সমতা রক্ষার নির্দেশ দেখতে পাই। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন—এক ব্যক্তি নবীজী (সা.)-এর কাছে বসা ছিল। এমন সময় তার এক পুত্র এল; সে তাকে চুমা খেল এবং নিজের উরুর ওপর বসাল। এরপর তার এক কন্যা এল; সে তাকে নিজের সামনে নিচে বসাল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন—“তুমি কেন তাদের দুজনের মধ্যে সমতা রক্ষা করলে না?” [মুসনাদে বাযযার; বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য]
এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যে, নবীজী (সা.) এমনকি আদর-স্নেহের ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা সামান্য পক্ষপাতিত্বও সন্তানের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
সন্তানদের মাঝে পক্ষপাতিত্বের কুফল
অনেক বাবা-মা অভিযোগ করেন যে, তাদের সন্তানদের মাঝে পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষ কাজ করছে; যা শিশুর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে, স্বাস্থ্যহানি ঘটায় এবং তার আচরণ ও ব্যক্তিত্বকে বাধাগ্রস্ত করে। অথচ তারা এর প্রতিকার জানেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) উপরোক্ত হাদীসগুলোতে ভাই-বোনদের মাঝে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমতা ও ইনসাফ বজায় রাখা ওয়াজিব করেছেন, যেন তাদের ভেতর থেকে হিংসার বীজ উপড়ে ফেলা যায়।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
শুরুতেই আমাদের মনে রাখা উচিত যে, শিশুরা প্রকৃতিগতভাবেই আদর এবং বিশেষ সুবিধা পেতে পছন্দ করে। যখনই এই সুবিধা পেতে অন্য কেউ (ভাই, বোন বা অন্য কেউ) প্রতিযোগী হয়ে দাঁড়ায়, তখনই তার মনে হিংসা দানা বাঁধে এবং সাপের বিষের মতো তার মনে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়ই হিংসা ও ঈর্ষার মূল ভিত্তি। অনেক সময় এই ভয় কেবলই কাল্পনিক হয়, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না। তবুও বড়দের মাঝেও যখন প্রতিযোগিতার ভয় কোনো যুক্তি মানে না, তখন শিশুদের ক্ষেত্রে তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
হিংসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো—পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া যখন হঠাৎ একটি শিশু দেখে তার সামনে নতুন একজন ছোট ভাই বা বোন হাজির হয়েছে! তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত না করেই যখন এই ‘অনাহূত’ মেহমান উপস্থিত হয়, তখন সে নিজেকে বঞ্চিত মনে করতে শুরু
