গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য অবহেলা বা পক্ষপাতিত্ব সন্তানদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে এবং পারিবারিক বন্ধনকে দুর্বল করে দিতে পারে।
সন্তানদের সাথে মিথ্যা বলার পরিণাম
আবদুল্লাহ ইবনে আমির (রা.) বর্ণনা করেন—একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বাড়িতে বসা ছিলেন, এমন সময় আমার মা আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, “এদিকে এসো, তোমাকে একটা জিনিস দেব।” রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন—“তুমি তাকে কী দিতে চেয়েছ?” মা বললেন, “আমি তাকে একটি খেজুর দিতে চেয়েছিলাম।” তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে বললেন—“মনে রেখো, তুমি যদি তাকে কিছু না দিতে, তবে তোমার আমলনামায় একটি ‘মিথ্যা’ লেখা হতো।” [সুনানে আবু দাউদ; হাদীসটি সহীহ]
এই হাদীসটি আমাদের শেখায় যে, সন্তানদের সাথে কথাবার্তায় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি ছোটখাটো মিথ্যা, যা আমরা হয়তো তেমন গুরুত্ব দিই না, সেটিও আল্লাহর কাছে হিসাবের বিষয়। সন্তানেরা তাদের বাবা-মাকে দেখেই সত্যবাদিতা বা মিথ্যাচার শেখে। তাই তাদের সামনে সবসময় সত্য বলা উচিত এবং প্রতিশ্রুতি রাখা উচিত।
সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষার আবশ্যকতা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে দেখান যে, সন্তানদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন:
“অবশ্যই ইউসুফ ও তার ভাইদের কাহিনীর মধ্যে জিজ্ঞাসুদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। যখন তারা (ভাইয়েরা) বলেছিল—ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চেয়ে অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি সংহত দল। নিশ্চয়ই আমাদের পিতা এক স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো অথবা তাকে কোনো নির্জন স্থানে ফেলে আসো, তবেই তোমাদের পিতার দৃষ্টি কেবল তোমাদের প্রতি নিবদ্ধ হবে এবং এরপর তোমরা নেককার হয়ে যাবে।” [সূরাহ ইউসুফ: ৭-৯]
এই আয়াতগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইয়াকুব (আ.)-এর পক্ষ থেকে ইউসুফ (আ.)-কে অধিক স্নেহ করার বিষয়টি ভাইদের মনে কী ভয়াবহ হিংসা ও জিঘাংসা তৈরি করেছিল। এটি আমাদের জন্য এক কঠিন শিক্ষা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। নুমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত—আমার পিতা আমাকে কিছু উপহার দিলেন। তখন আমার মা বললেন, “আমি ততক্ষণ সন্তুষ্ট হব না, যতক্ষণ না আপনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এর সাক্ষী রাখবেন।” আমার পিতা নবীজী (সা.)-এর কাছে গিয়ে বললেন, “আমি আমার এই পুত্রকে একটি উপহার দিয়েছি, তার মা আপনাকে
