একটি বিশেষ সুযোগ (রুখসাত)। তাঁরা রোজা রাখতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও রোজা না রেখে প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার দিতে পারতেন। ঠিক একইভাবে গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা যদি নিজের বা সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তাঁরাও রোজা না রেখে ফিদিয়া দেবেন। [আল-বযযার] এই বর্ণনার শেষে আরও আছে—ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর সন্তানের জননীকে (উম্মে ওয়ালাদ) উদ্দেশ্য করে বলতেন: “তুমি সেই ব্যক্তির পর্যায়ভুক্ত যে রোজা রাখতে কষ্টবোধ করে। সুতরাং তুমি কেবল ফিদিয়া দাও, তোমার ওপর কোনো কাজা নেই।” [দারাকুতনী এর সনদকে সহীহ বলেছেন]
নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত—ইবনে উমর (রা.)-কে জনৈক গর্ভবতী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তার সন্তানের ব্যাপারে শঙ্কিত। তিনি বললেন: “সে রোজা ভাঙবে এবং প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকিনকে এক ‘মুদ’ পরিমাণ গম দান করবে।” [মালিক ও বায়হাকী] এক মুদ হলো এক ছটাক বা পয়া (প্রায় ৬২৫ গ্রাম) পরিমাণ গম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের ওপর থেকে রোজার বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দিয়েছেন এবং নামাজের অর্ধেক (কসর) কমিয়ে দিয়েছেন; আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীর ওপর থেকেও রোজার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নিয়েছেন।” [আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ; সনদ অত্যন্ত ভালো]
লক্ষণীয় যে, কুরআনের আয়াতে অসুস্থ ও মুসাফিরের ক্ষেত্রে ‘কাজা’ করার কথা স্পষ্টভাবে থাকলেও গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে তা বলা হয়নি। ইসলামের এই সহজ ও দয়াশীল বিধানটি দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ মুসলিমের কাছে আজ অজানা। ফলে অনেক মা রোজা রাখতে গিয়ে নিজেকে ও সন্তানকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেন। কারণ একজন মা যখন ভাবেন যে পরে তাকে কাজা করতে হবে, তখন তিনি কাজার ভয়ে দুর্বল শরীর নিয়েও রোজা পালন করেন এবং মা-শিশু উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাস্তবে একজন গর্ভবতী বা দুগ্ধদাত্রী মা কাজা করার জন্য অবসর পাবেনই বা কখন? বিশেষ করে দাম্পত্যের প্রথম বছরগুলোতে একজন নারী হয় গর্ভবতী থাকেন অথবা সন্তানকে দুধ খাওয়ান। এমতাবস্থায় তিনি কখন কাজা করবেন? আইম্মায়ে মুজতাহিদগণ গর্ভবতী ও দুগ্ধদাত্রী মায়ের জন্য কাজা করা ওয়াজিব বলেছেন। নিঃসন্দেহে তাঁরা (রহ.) উপরোক্ত দলিলগুলো হয়তো পাননি, অন্যথায় তাঁরা এই সুস্পষ্ট দলিলের বিরোধিতা করতেন না। কেননা তাঁরা সকলেই বলে গেছেন—’সহীহ হাদীসই আমার মাযহাব’। ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রা.)-এর এই বক্তব্যগুলো ‘মারফূ’ হাদীসের পর্যায়ভুক্ত, কারণ
