কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে তারা সন্তান কামনায় তাঁর দরবারে মিনতি জানিয়েছেন। যাকারিয়্যা (আ.) প্রার্থনা করেছিলেন:
“হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।” [সূরাহ আলে ইমরান: ৩৮]
ইবরাহীম (আ.)-এর প্রার্থনায় আমরা পড়ি:
“হে আমার রব! আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন।” [সূরাহ ইবরাহীম: ৪০]
অধ্যাপক মোস্তফা আব্দুল ওয়াহিদ তাঁর ‘আল-উসরাতু ফিল ইসলাম’ গ্রন্থে উপরোক্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় বলেন: “কুরআন কারীম স্পষ্ট করেছে যে, নবীগণ—যাঁরা আদর্শ আচরণের সর্বোচ্চ মডেলে ভূষিত ছিলেন—তাঁরা পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এবং সন্তান কামনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের শিখিয়েছেন যেন তাঁরা বিনীতভাবে তাঁর কাছে পরিবারের প্রশান্তি ও সুখ আস্বাদনের জন্য প্রার্থনা করেন। এটি মূলত একটি দিকনির্দেশনা—যেন মানুষ পরিবারের ছায়াতলে এক পবিত্র জীবনের সন্ধান করে। কেননা ইসলাম মানুষের জন্য পরিবারের আবশ্যকতাকে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। দুঃখ ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনের জন্য পরিবার হলো মানুষের এক সহজাত ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন।” (পৃষ্ঠা: ১৮-১৯)
নেককার সন্তান কেবল পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং পরকালের পাথেয়ই নয়; বরং তারা মানুষের যৌন প্রবৃত্তিকে সুশৃঙ্খল ও মার্জিত করার মাধ্যম। পরিবার মানুষের সেই লাগামহীন প্রবৃত্তিকে দমন করে। কেননা মানুষের স্বভাব হলো—নিজের মালিকানাধীন জিনিসের প্রতি সে দ্রুতই নির্লোভ হয়ে যায়। দাম্পত্যের শুরুতে যে তীব্র পিপাসা থাকে, তা যখন প্রশমিত হয় এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সান্নিধ্যের নিশ্চয়তা পায়, তখন সেই উন্মাতাল আবেগ এক যৌক্তিক সীমায় এসে স্থির হয়। বিশেষ করে সন্তানাদি যখন বড় হতে থাকে এবং তাদের অধিক যত্নের প্রয়োজন হয়, তখন বাবা-মায়ের মন সেই আদিম তাড়না থেকে বিমুখ হয়ে এক দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এভাবে পরিবার একজন ব্যক্তিকে শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি দান করে যা তাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ইসলামের কোমল বিধান: রমজানে রোজা না রাখা ও ফিদিয়া
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর যাদের জন্য রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর, তারা এর পরিবর্তে ফিদিয়া হিসেবে একজন মিসকিনকে অন্নদান করবে।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ১৮৪]
আবু দাউদ ইকরিমাহ (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন—এটি ছিল অতি বৃদ্ধ পুরুষ ও নারীর জন্য
