তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ইবাদত সংক্রান্ত এমন বিধান তাঁরা নিজের পক্ষ থেকে বলতে পারেন না।

সারকথা হলো: গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা যদি রোজা না রাখেন, তবে তাঁদের ওপর কেবল ফিদিয়া দেওয়া আবশ্যক; কোনো কাজা তাঁদের ওপর নেই! (ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস রা.-এর অভিমত)

উপসংহার

সন্তান প্রতিপালনে উৎসাহ দান ও পিতামাতার দায়িত্ব
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সন্তানের গুরুত্ব ও পিতামাতার দায়িত্ব সম্পর্কে অসংখ্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“নিশ্চয়ই আমি মৃতদের জীবিত করি এবং লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে আর যা তারা পেছনে রেখে যায়।” [সূরাহ ইয়াসীন: ১২]
এই মহিমান্বিত আয়াতটি ইঙ্গিত দেয় যে, মহান আল্লাহ কেবল মানুষের জীবদ্দশার আমলগুলোই লিখে রাখেন না; বরং মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া প্রভাব ও কর্মফল—তা ভালো হোক বা মন্দ—তারও প্রতিদান দিয়ে থাকেন। যেহেতু সন্তান মানুষের রেখে যাওয়া শ্রেষ্ঠ নিদর্শন বা প্রভাবগুলোর অন্যতম, তাই তাদের কৃত প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব তাদের বাবা-মায়ের আমলনামায়ও লেখা হয়—এতে সন্তানের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হয় না। ঠিক একইভাবে, বাবা-মা যদি সন্তানের তরবিয়ত বা লালন-পালনে অবহেলা করেন, তবে সেই সন্তানের পাপের বোঝাও তাঁদের আমলনামায় যুক্ত হতে পারে।
আল্লাহ আরও বলেন:
“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা তা-ই করে যা তাদের আদেশ করা হয়।” [সূরাহ আত-তাহরীম: ৬]
পরিবারকে—অর্থাৎ স্ত্রী ও সন্তানকে—জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার উপায় হলো তাদের সুশিক্ষা দান এবং সঠিক আদর্শে গড়ে তোলা। এটি পিতামাতার ওপর অর্পিত এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সচেতন মুমিনদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা সন্তানদের নিয়ে ব্যাকুল থাকেন। আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করে বলেন:
“আর যারা বলে—হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে এমন কাউকে দান করুন যারা আমাদের চক্ষুশীতল করবে এবং আমাদের মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন।” [সূরাহ আল-ফুরক্বান: ৭৪]
এই আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, সচেতন মুমিন ব্যক্তিরা সর্বদা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেককার হওয়ার বিষয়ে ব্যাকুল থাকেন; যেন তারা দুনিয়াতে তাঁদের চোখের শান্তি হয় এবং পরকালেও পাথেয় হয়ে থাকে। কতই না হতভাগ্য সেই সব মানুষ যারা নিজ

« <
/ 351
> »