দেখেন? যে ভালোবাসায় এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে, তা সেই ভালোবাসা থেকে ভিন্ন— যেখানে মানুষ যেকোনো মূল্যে বিতর্ক এড়িয়ে চলে অথবা তর্কের সময় নিজের জেদ ধরে বসে থাকে। একটি পরিপক্ব ভালোবাসা সবসময় দাম্পত্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দেয়, কোনো একজনের ব্যক্তিত্ব জাহির করার দিকে নয়।
তৃতীয়ত: আপনি কি ‘আমরা’ এই ভাবনায় চিন্তা করেন? যখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেন, তখন কি তা আপনাদের দুজনের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে করেন? আপনারা কি একে অপরের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন? আপনারা কি অনুভব করেন যে একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ? আপনারা কি একটি পরিপক্ব ভালোবাসার সামর্থ্য রাখেন?
চতুর্থত: আপনারা কি অনুভব করেন যে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে আপনারা অংশীদার? আপনাদের সেই যৌথ লক্ষ্য কি আপনাদের পারস্পরিক স্বপ্নগুলো পূরণে সক্ষম? আপনারা কি অনুভব করেন যে আপনাদের ভালোবাসা আপনাদের মূল্যবান কাজগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে? এই ভালোবাসার ফলে কি আপনাদের আগ্রহ ও কর্মপরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে?
দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে কেবল চমৎকার সঙ্গী হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং এই সম্পর্কের একটি লক্ষ্য ও অর্থ থাকতে হবে। আপনি যদি সেই মেয়েটিকে আপনার সন্তানদের মা হিসেবে দেখতে চান, অথবা আপনি যদি সেই পুরুষটিকে আপনার সন্তানদের বাবা হিসেবে দেখতে চান— তবে আপনাদের ভালোবাসা কেবল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং তা মহত্তর কোনো উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হলো। চিরস্থায়ী ভালোবাসা মানুষকে এমন সব মহৎ কাজ সম্পন্ন করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা আগে তাদের ভাবনার অতীত ছিল। একে অপরের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে তারা দুজনেই নিজেকে আগের চেয়ে আরও উত্তম, আরও সুখী এবং আরও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করে।
ভালোবাসাকে কীভাবে সজীব রাখবেন?
ভালোবাসা কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার গ্যারান্টি দেয় না। একটি চারাগাছের যেমন বেঁচে থাকার জন্য পুষ্টি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়, স্থির ও গভীর ভালোবাসার জন্যও তেমন যত্ন প্রয়োজন। মানুষের বেড়ে ওঠার পরিবেশভেদে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ভিন্ন হতে পারে। কেউ হয়তো প্রিয়তমার মুখে ভালোবাসার ভাষা, মায়া ও মমতার আশ্বাস শুনতে পছন্দ করেন; আবার কেউ হয়তো কেবল সম্পর্কের উষ্ণতাটুকু নীরবে অনুভব করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। দম্পতিদের উচিত নিজেদের জন্য সবচেয়ে মানানসই মাধ্যমটি বেছে নেওয়া।
পরস্পরকে উপহার দেওয়া, বিশেষ দিনগুলো মনে রাখা, সঙ্গীর দিকে মুগ্ধ নয়নে
