তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

তুমি উসামাহ বিন যাইদকে বিয়ে করো।”
ফাতিমাহ (রা.) বলেন, “আমি তাকে অপছন্দ করলাম।” তিনি আবার বললেন, “উসামাহকে বিয়ে করো।” অতঃপর আমি তাকেই বিয়ে করলাম। আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ দান করলেন এবং আমি তার সাথে অত্যন্ত সুখে (ঈর্ষণীয় অবস্থায়) ছিলাম। [হাদীসটি ইমাম শাফি‘ঈ ‘আর-রিসালাহ’ ও ‘আল-উম্ম’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া আহমাদ ও বুখারী ব্যতীত সিহাহ সিত্তাহর বাকি সকল ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন।]

চিরস্থায়ী ভালোবাসা ও সফল দাম্পত্য
দাম্পত্য জীবনে নিঃস্বার্থতা ও ত্যাগের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ মুমিনদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেন:
“তারা নিজেদের ওপর অন্যদের প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়।” [সূরাহ আল-হাশর: ৯]
“অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না।” [সূরাহ আল-মুদ্দাসসির: ৬]
শেষোক্ত আয়াতের একটি তাৎপর্য হলো— এই উদ্দেশ্যে কাউকে সম্পদ দিও না যে, বিনিময়ে তুমি তার চেয়ে বেশি কিছু পাবে। মুমিনের এই নিঃস্বার্থ মনোভাব দাম্পত্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হাদীসে এসেছে:
“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [মুসনাদ আহমাদ ও সুনানুত তিরমিযী]
একজন চিন্তাবিদ বলেন— আপনি কি জানতে চান আপনার বৈবাহিক জীবন সফল, দীর্ঘস্থায়ী এবং সুখের হবে কি না? যদি তা জানতে চান, তবে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন:
প্রথমত: আপনি কি আপনার প্রিয় মানুষটির সুখের ব্যাপারে যত্নশীল? তার পছন্দের কাজগুলোতে তাকে সাহায্য করার তাগিদ কি আপনি অনুভব করেন? নাকি আপনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত সুখ নিয়েই মগ্ন থাকেন এবং আশা করেন যে অপর পক্ষ সবসময় আপনার আনন্দ বাড়িয়ে দেবে? মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো মেয়ের এমন ছেলেকে বিয়ে করা উচিত নয় যাকে বিয়ের পর ‘সুধরানো’ যাবে বলে আশা করা হয়; কিংবা এই ধারণা করাও ভুল যে, ছেলেটি কেবল ভালোবাসার টানে নিজের স্বভাবের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো বদলে ফেলবে।
দ্বিতীয়ত: আপনাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে তা সমাধান করার ব্যাপারে কি আপনি সবসময় উৎসাহ বোধ করেন? নিজের মতকে সঠিক প্রমাণ করার চেয়ে কি আপনাদের দাম্পত্য জীবন রক্ষা করা আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? কাঙ্ক্ষিত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আপনি কি নিজের অহংবোধ কিছুটা বিসর্জন দিতে প্রস্তুত? নিজেদের মধ্যকার বিবাদগুলোকে কি আপনি দাম্পত্য জীবন মজবুত করার এক একটি গঠনমূলক সুযোগ হিসেবে

« <
/ 351
> »