অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।” [সূরাহ আল-আহযাব: ৫৮]
পয়গাম বা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে এই সীমালঙ্ঘনের স্বরূপ বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন:
“কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না সে বিয়ে করে অথবা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
আল-বাহিয়্যুল খুলী তাঁর ‘আল-মারআতু বাইনাল বাইতি ওয়াল মুজতামা’ (ঘর ও সমাজের মাঝে নারী) গ্রন্থে এই নিষেধাজ্ঞার হিকমত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন— অন্যের প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। কোনো বিবেকবান ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের জন্য এটি জায়েজ নয় যে, সে এমন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে যাকে অন্য কেউ ইতিমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে বলে সে জানে। কারণ, এটি পারস্পরিক বন্ধন ছিন্ন করে এবং শত্রুতা ও বিদ্বেষের জন্ম দেয়। উপরন্তু, এটি চারিত্রিক নীচতা ও কর্মের পঙ্কিলতা। কেননা, এই হীন প্রতিযোগিতার ময়দানে যে নামে, তাকে অনিবার্যভাবে নিজের প্রশংসা করতে হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর নিন্দা করতে হয়। ফলে সে নিজের এমন সব গুণগান গায়, যা সত্য হলেও নিজের মুখে বলাটা এক ধরনের অপূর্ণতা; আর প্রতিদ্বন্দ্বীর এমন সব দোষ চর্চা করে, যা সত্য হলেও একজনের গীবত বা কুৎসা রটনার পাপের জন্য যথেষ্ট।
তবে এই বিধানের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন— প্রস্তাবকারী যদি নিজে থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, তবে অন্য কারো জন্য প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার তৈরি হয়। আবার প্রথম প্রস্তাবকারী যদি ফাসিক (পাপাচারী) হয়, তবে অন্য কেউ প্রস্তাব দিতে পারে। কারণ, দ্বীনদারহীন একজনের হাত থেকে মেয়েটিকে রক্ষা করা তখন তার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া যদি কারো কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়, তবে তার দৃষ্টিতে যে অধিক উত্তম তার নাম প্রস্তাব করা একজন মুসলিমের জন্য সংগত।
এই প্রসঙ্গের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইমাম শাফি‘ঈর ‘জিমাউল ইলম’ গ্রন্থে (আহমাদ মুহাম্মাদ শাকিরের তাহকীককৃত) বর্ণিত হয়েছে। ফাতিমাহ বিনতে ক্বায়স (রা.) বলেন— রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছিলেন, “তোমার ইদ্দত শেষ হলে আমাকে জানিও।” ইদ্দত শেষ হলে আমি তাঁকে জানালাম যে, মু‘আবিয়া ও আবূ জাহম আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। তখন নবী (সা.) বললেন:
“মু‘আবিয়া তো নিঃস্ব, তার কোনো সম্পদ নেই। আর আবূ জাহম তো কাঁধ থেকে লাঠিই নামায় না (অর্থাৎ সে স্ত্রীকে প্রহার করে অথবা অধিক ভ্রমণকারী)। বরং
