মারাত্মক কুফলের সম্মুখীন হয়। অথচ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক নারী-পুরুষের নৈতিক দায়িত্ব হলো—যদি কেউ কোনো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের পথে অগ্রসর না হওয়া। কারণ, মুমিনের চরিত্র সম্পর্কে সহীহ হাদীসে এসেছে:
“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৩]
ডক্টর ওয়াজিহ জাইনুল আবেদীন তাঁর ‘আল-ইসলাম ওয়াত-তারবিয়াতুল জিনসিয়্যাহ’ (ইসলাম ও যৌন শিক্ষা) শীর্ষক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, উপরোক্ত হাদীসগুলো এবং শরীয়াহর একটি বিশেষ মূলনীতি থেকে বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। সেই মূলনীতিটি হলো:
“কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস: ২৮৬৫; সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৩৪০]
এই নীতি ও হাদীসসমূহ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, একজন নেককার স্ত্রী নির্বাচন এবং নারী-পুরুষ উভয়ের পারস্পরিক ক্ষতি রোধ করার স্বার্থে ইসলামী ব্যবস্থায় বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা কেবল জায়েজই নয় বরং আবশ্যক। বিশেষ করে নারীর সন্তান ধারণের সক্ষমতা এবং পুরুষের কোনো সংক্রামক ব্যাধি, লিঙ্গ অক্ষমতা, বন্ধ্যাত্ব কিংবা মানসিক বিকৃতি আছে কি না—তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, পুরুষের শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ‘বাআহ’ বা সামর্থ্য থাকা। যেমনটি হাদীসে এসেছে:
“…তোমাদের মধ্যে যার ‘বাআহ’ (সামর্থ্য) আছে, সে যেন বিয়ে করে।” [সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫০৬৬]
আল-ফিরোয আবাদীর ‘আল-ক্বামূসুল মুহীত’ গ্রন্থ অনুযায়ী—এখানে ‘বাআহ’ বলতে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বাসস্থান ও ভরণপোষণের সক্ষমতা এবং সেই সাথে শারীরিক ও যৌন সক্ষমতাকেও বোঝানো হয়েছে। সুতরাং দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য বিয়ের পূর্বেই স্বাস্থ্য বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া ইসলামেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
বিয়ের পয়গাম বা প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার নিষেধ
ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে অন্যের বিয়ের প্রস্তাবে হস্তক্ষেপ করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা সীমালঙ্ঘন ও অন্যের মনে কষ্ট দেওয়া সম্পর্কে সতর্ক করে ইরশাদ করেছেন:
“আর তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ১৯০]
“আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা
