নির্দেশনা দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো—আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান।” [সহীহ মুসলিম ও সুনানে আরবাআ] এই নামকরণের একটি তাৎপর্য হলো, শিশু যখন বড় হতে শুরু করে এবং তার বোধশক্তি তৈরি হয়, তখন সে উপলব্ধি করতে পারে যে সে ‘আল্লাহর বান্দা’ এবং আল্লাহ তাআলাই তার একমাত্র ইলাহ ও অভিভাবক।
নবীজী (সা.) আরও বলেন: “তোমরা আমার নামে নাম রাখো, তবে আমার কুনিয়ত (উপনাম—আবুল কাসিম) গ্রহণ কোরো না; কারণ আমিই বন্টনকারী (কাসিম)।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
উপসংহার
শিশু কথা বলা শুরু করলে তাকে যা শেখাতে হবে
একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সন্তানদের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করা। তাদের জীবনের প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তাওহীদের বাণী। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর ‘তুহফাতুল মওদুদ বি আহকামিল মওলুদ’ গ্রন্থে বলেন: “শিশুরা যখন কথা বলার বয়সের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং আপনি যখন তাদের কথা বলা সহজ করতে চান, তখন তাদের জিভ মধু ও ‘আন্দারানি’ লবণ দিয়ে আলতো করে মালিশ করে দিন। এতে জিভের সেই জড়তা বা ভারী আর্দ্রতা দূর হয় যা কথা বলায় বাধা সৃষ্টি করে। আর যখন তারা স্পষ্ট উচ্চারণ করতে শিখবে, তখন তাদের মুখে প্রথমেই তুলে দিন—’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। তাদের কানে প্রথম যে বিষয়টি প্রতিধ্বনিত হওয়া উচিত তা হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মহিমা ও তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা। তাদের এও শেখাতে হবে যে, আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর সমাসীন; তিনি তাদের দেখছেন, তাদের কথা শুনছেন এবং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি (তাঁর জ্ঞান ও কুদরত দ্বারা) তাদের সাথেই আছেন।”
অর্থাৎ, ইবনে আব্বাস (রা.) ও অন্যান্য সাহাবীগণ মহান আল্লাহর বাণী—”তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন”—এর যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী শিশুকে শিক্ষা দিতে হবে। কোনোভাবেই এটি বলা যাবে না যে, আল্লাহ তাআলা স্বয়ং সশরীরে সব জায়গায় বিরাজমান। সালাফে সালেহীন ও সকল ইমামদের মতে, তিনি তাঁর সুউচ্চ আরশের ওপর সমাসীন এবং সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
শিশু বুঝতে শিখলে তাকে তাওহিদের যে পাঠ দিতে হবে
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন—একদা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে (সওয়ারিতে) বসা ছিলাম। তিনি আমাকে
