বললেন: “হে কিশোর! আমি তোমাকে কিছু (মূল্যবান) কথা শেখাচ্ছি: তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। তুমি আল্লাহকে স্মরণ করো, তবে তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন কিছু চাইবে, তখন কেবল আল্লাহর কাছেই চেয়ো। আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে, তখন কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চেয়ো। জেনে রেখো, যদি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবে আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে বিন্দুমাত্র উপকারও তারা করতে পারবে না। আর তারা সবাই মিলেও যদি তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবে আল্লাহ তোমার তকদিরে যা লিখে রেখেছেন তার বাইরে বিন্দুমাত্র ক্ষতিও তারা করতে পারবে না। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কাগজের কালিও শুকিয়ে গেছে।” [সুনানে তিরমিযী; হাদীসটি হাসান ও সহীহ] এই হাদীসের সনদ অত্যন্ত মজবুত।
শিশুকে খাবারের যে আদব শেখাতে হবে
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পালকপুত্র উমর বিন আবি সালামাহ (রা.) বর্ণনা করেন—আমি নবীজী (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে থাকাকালীন খাওয়ার সময় পাত্রের চারপাশ থেকে হাত চালিয়ে খেতাম। তা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন: “হে কিশোর! আল্লাহর নাম নাও (বিসমিল্লাহ পড়ো), ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনের দিক থেকে খাও।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম] এই হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, খাবারের শুরুতে কেবল ‘বিসমিল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মারফূ হাদীসে আছে: “তোমাদের কেউ খাবার সময় যেন বলে—বিসমিল্লাহ। আর যদি শুরুতে বলতে ভুলে যায়, তবে যেন বলে—বিসমিল্লাহি ফি আউয়ালিহি ওয়া আখিরিহি (শুরু ও শেষে আল্লাহর নামে)।” [সুনানে তিরমিযী; হাদীসটি সহীহ]
শিশুদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর স্নেহ ও কৌতুক
শিশুদের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, তার সর্বোত্তম উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন। তিনি শিশুদের প্রতি অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান বিন আলী (রা.)-এর সাথে মজা করার জন্য নিজের জিভ বের করতেন। শিশু হাসান জিভের সেই লাল আভা দেখে খিলখিল করে হেসে দ্রুত তাঁর দিকে ছুটে আসত। [সহীহ ইবনে হিব্বান]
রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজ পড়তেন; তিনি যখন সেজদায় যেতেন, হাসান ও হুসাইন (রা.) তাঁর পিঠের ওপর চড়ে বসতেন। সাহাবীগণ তাঁদেরকে নামিয়ে দিতে চাইলে নবীজী (সা.) ইশারায় তাঁদের বাধা দিতেন। নামাজ শেষে তিনি তাঁদের কোলে নিতেন এবং বলতেন: “যে
