তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

তাঁর ‘আল-মুনকিয মিনাদ দলাল’ গ্রন্থে একটি ভ্রান্ত পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন—যেখানে বলা হয়েছে দুটি কাপড়ের টুকরোতে কিছু অক্ষর ও সংখ্যা লিখে গর্ভবতী নারীর পায়ের নিচে রাখা এবং সেদিকে তাকিয়ে থাকা, যাতে দ্রুত সন্তান প্রসব হয়। এ জাতীয় কর্মতৎপরতা শরিয়ত কিংবা বিবেক—কোনোটিই সমর্থন করে না।

আকিকা ও খতনার আবশ্যকতা

নবজাতকের জন্মের পর ইসলামে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো আকিকা ও খতনা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: “নবজাতকের পক্ষ থেকে আকিকা দিতে হয়। সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে পশু জবেহ (রক্ত প্রবাহিত) করো এবং তার কষ্টদায়ক বস্তু (চুল ইত্যাদি) দূর করে দাও।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

ডক্টর সবরি আল-কাব্বানি তাঁর ‘হায়াতুনা আল-জিনসিয়্যাহ’ (আমাদের যৌনজীবন) গ্রন্থে খতনার উপকারিতা সম্পর্কে লিখেছেন: খতনা একটি মহৎ স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা, যা মানুষকে অনেক রোগ ও জটিলতা থেকে রক্ষা করে। খতনার কিছু উপকারিতা নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. খতনার মাধ্যমে লিঙ্গাগ্রের অতিরিক্ত চামড়া (Prepuce) কেটে ফেলায় সেখানে জমে থাকা তৈলাক্ত নিঃসরণ ও বিরক্তিকর শ্বেত পদার্থ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, যা পচন ও সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে।
২. এর ফলে লিঙ্গাগ্রের চামড়া আটকে যাওয়ার (Paraphimosis) ঝুঁকি থাকে না।
৩. খতনা ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, খতনা না করা ব্যক্তিদের মধ্যে লিঙ্গ ক্যান্সারের হার বেশি, কিন্তু যেসব জাতি ধর্মীয় বিধান হিসেবে খতনা করে, তাদের মধ্যে এটি অত্যন্ত বিরল।
৪. শৈশবে দ্রুত খতনা করালে শিশুদের রাতে বিছানায় প্রস্রাব করার (Bedwetting) সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে লিঙ্গাগ্রের চামড়ার অস্বস্তির কারণে স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ায় এই সমস্যা হয়ে থাকে।
৫. এটি কিশোরদের মধ্যে হস্তমৈথুনের মতো কু-অভ্যাসের প্রবণতা কমিয়ে দেয়; কারণ সেই অংশে জমে থাকা নিঃসরণ স্নায়বিক উত্তেজনা তৈরি করে।
৬. খতনার ফলে যৌন ক্ষমতা ও তৃপ্তির ওপর পরোক্ষ ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, খতনা করা ব্যক্তিদের বীর্যপাতের সময় দীর্ঘ হয়, যার ফলে তারা এবং তাদের জীবনসঙ্গিনী অধিকতর তৃপ্তি লাভ করেন। চিকিৎসক ‘ফেলিংগার’-এর মতে, খতনার অন্যতম লক্ষ্য হলো এই সময়কাল দীর্ঘায়িত করা।

দুর্ভাগ্যজনক যে, কোনো কোনো চিকিৎসক সংকীর্ণমনা হয়ে তাঁদের ছাত্রদের বলেন যে খতনা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর! অথচ এর স্বপক্ষে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিদ্যমান। এটি চরম

« <
/ 351
> »