তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ঠিক যেমন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাতকে শয়তান পরিবর্তন করার আগেই তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।

এ প্রসঙ্গে ‘তুহফাতুল মওদুদ বি আহকামিল মওলুদ’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করার জন্য আমরা বিশেষভাবে পরামর্শ দিই। কারণ এতে অত্যন্ত মূল্যবান ইসলামি ও শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা রয়েছে। শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক যত্নের বিষয়ে সেখান থেকে একটি উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

শিশুকে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে রক্ষা করা উচিত যা তাকে আতঙ্কিত করে—যেমন বিকট বা ভয়ংকর শব্দ, বীভৎস দৃশ্য কিংবা বিচলিত করার মতো কোনো নড়াচড়া। কারণ এসব বিষয় শিশুর বুদ্ধিদীপ্ত শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল করে দিতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব বড় হওয়ার পর প্রকাশ পায়। যদি শিশু কখনো এমন কোনো পরিস্থিতির শিকার হয়, তবে অবিলম্বে তার বিপরীতে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে। তাকে এমন কিছু দিয়ে ভুলিয়ে রাখতে হবে যাতে সে ভয় ভুলে যায়। তৎক্ষণাৎ তাকে মায়ের স্তন্যদান করা উচিত যাতে সেই ভীতিকর স্মৃতি তার স্মৃতিপটে স্থায়ী হতে না পারে। কারণ শৈশবে কোনো আতঙ্ক স্মৃতিতে গেঁথে গেলে তা দূর করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাকে আলতোভাবে দোল দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া উচিত যাতে ঘুমের ঘোরে সে সব ভুলে যায়। এই বিষয়টিকে অবহেলা করা মোটেও ঠিক নয়; কারণ অবহেলা করলে তার অন্তরে ভয় ও আতঙ্ক স্থায়ী রূপ নিতে পারে, যা পরবর্তীতে দূর করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। [পৃষ্ঠা: ১৩৮]

প্রসবকালীন জটিলতা নিরসনে খেজুরের ভূমিকা

প্রসবকালীন জটিলতা নিরসন প্রসঙ্গে ডক্টর আব্দুল আজিজ শরাফ তাঁর ‘আন-নাবাতাতুত তবিইয়্যাহ’ (প্রাকৃতিক উদ্ভিদসমূহ) নামক প্রবন্ধে খেজুরের গুনাগুন বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন: গবেষণায় দেখা গেছে যে, খেজুর জরায়ুর মাংসপেশির সংকোচন ও প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং একে শক্তিশালী করে। ফলে সন্তান প্রসবের সময় এটি প্রসূতি মাকে বিশেষভাবে সাহায্য করে। [পৃষ্ঠা: ৫] এরপর তিনি পবিত্র কুরআনের সেই মহান আয়াতের মাধ্যমে এর সত্যতা তুলে ধরেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: “আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা তোমার ওপর তাজা ও পাকা খেজুর ঝরিয়ে দেবে।” [সূরাহ মারইয়াম: ২৫] সুবহানাল্লাহ! কুরআনের রহস্য কতই না মহান!

তবে সন্তান প্রসব সহজ করার নামে কোনো প্রকার কুসংস্কার বা অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। ইমাম গাজালী (রহ.)

« <
/ 351
> »