রেগে বললেন: “আল্লাহর কসম! তোমার ঘরে ইঁদুরগুলো কেবল জন্মভূমির মায়ার পড়ে আছে! নইলে খাবারের জন্য তো ওদের পাশের বাড়ির লোকদের কাছেই ধরণা দিতে হয়!”
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর ‘আল-আযকিয়া’ গ্রন্থে একটি বুদ্ধিমত্তার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রা.) এবং একজন অতি সুদর্শন যুবক একই সাথে এক নারীর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। নারীটি খবর পাঠালেন: “আমি তোমাদের দুজনের সাথে কথা না বলে সিদ্ধান্ত নেব না।” তিনি তাঁদের দুজনকে এমন জায়গায় বসালেন যেখান থেকে তিনি তাঁদের দেখতে ও শুনতে পাচ্ছিলেন।
মুগীরাহ (রা.) যখন যুবকের সৌন্দর্য ও তেজ দেখলেন, তখন তিনি নিরাশ হলেন যে নারীটি তাঁকে পছন্দ করবে না। তিনি এক কৌশল অবলম্বন করে যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি তো অনেক রূপবান ও সুবক্তা, তোমার আর কী গুণ আছে?” যুবকটি গর্বের সাথে তার সব গুণাবলি বর্ণনা করল। মুগীরাহ জিজ্ঞেস করলেন: “হিসাব-কিতাবের ব্যাপারে তুমি কেমন?” যুবকটি বলল: “আমি চুলচেরা হিসাব করি, সামান্য তিল পরিমাণও ছাড় দিই না!”
তখন মুগীরাহ (রা.) বললেন: “আর আমি থলেভর্তি টাকা ঘরের কোণে ফেলে রাখি। আমার পরিবার তা যেভাবে ইচ্ছা খরচ করে। টাকা শেষ হয়ে যখন তারা নতুন করে টাকা চায়, কেবল তখনই আমি জানতে পারি যে টাকা শেষ হয়েছে!”
নারীটি মনে মনে ভাবলেন: “আল্লাহর কসম! এই প্রবীণ ব্যক্তি যে আমার কাছে হিসাব চায় না, সে আমার কাছে ওই যুবকের চেয়ে উত্তম যে তিল তিল হিসাব কষবে।” অতঃপর তিনি মুগীরাহ (রা.)-কেই বিয়ে করলেন।
অধিক সন্তান লাভের অনুপ্রেরণা
ইসলাম অধিক সন্তান লাভে উৎসাহিত করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আমি মৃতদের জীবিত করি এবং লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা তারা পশ্চাতে রেখে যায় (তাদের পদচিহ্ন বা প্রভাব)।” [সূরাহ ইয়াসীন: ১২]
“এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য অগ্রিম (নেক আমল বা সন্তান) প্রেরণ করো।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২৩]
ইমাম গাজালী (রহ.) তাঁর ‘এহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন’-এ বলেছেন: “যৌন আকাঙ্ক্ষার দুটি উপকারিতা আছে—এক. পার্থিব এই চরম তৃপ্তির মাধ্যমে পরকালীন জান্নাতের মহা সুখের ধারণা পাওয়া। দুই. বংশধারা ও অস্তিত্ব বজায় রাখা। তবে একে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তা দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ই ধ্বংস করে দেয়।” (উল্লেখ্য: এহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন পড়ার ক্ষেত্রে সুন্নাহ সম্পর্কে সচেতন
