ছাড়া)—’হে লোকসকল! তোমাদের রবের দিকে এসো। কারণ, যা পরিমাণে কম কিন্তু যা দিয়ে প্রয়োজন মেটে, তা সেই প্রাচুর্যের চেয়ে উত্তম যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়।’ আর সূর্য যখন অস্ত যায়, তখনও দুজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন: ‘হে আল্লাহ! দানকারীকে তার বিনিময়ে দান করুন এবং কৃপণ ব্যক্তির সম্পদ ধ্বংস করে দিন’। [ইবনে হিব্বান, হাকেম; মুহাদ্দিসগণ একে সহীহ বলেছেন]
পরিবারের জন্য উপার্জনের সওয়াব
শুধু কৃপণতা থেকে বিরত থাকাই নয়, বরং পরিবারের জন্য উপার্জন করাও ইবাদত। কা’ব বিন উজরাহ (রা.) বর্ণনা করেন— একদা নবীজী (সা.)-এর পাশ দিয়ে একজন সবল ও কর্মঠ ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাঁর দৈহিক শক্তি ও কর্মস্পৃহা দেখে সাহাবীগণ বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! এই তেজ ও শক্তি যদি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) ব্যয় হতো!” রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “সে যদি তার ছোট সন্তানদের রিযিকের সন্ধানে বের হয়ে থাকে, তবে তা আল্লাহর রাস্তায়। সে যদি তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবার জন্য উপার্জনে বের হয়ে থাকে, তবে তাও আল্লাহর রাস্তায়। আর সে যদি নিজের পবিত্রতা রক্ষার (স্বাবলম্বী হওয়ার) জন্য বের হয়, তবে তাও আল্লাহর রাস্তায়। কিন্তু সে যদি লোকদেখানো ও অহংকার প্রদর্শনের জন্য বের হয়, তবে তা শয়তানের রাস্তায়।” [তাবারানী; বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য]
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেছেন: “আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসে খরচের পরিমাণ অনুযায়ী, আর ধৈর্য আসে মুসিবতের পরিমাণ অনুযায়ী।” [আল-বাযযার; সনদ হাসান]
অন্য হাদীসে এসেছে: “প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন: ‘হে আল্লাহ! দানকারীকে প্রতিদান দিন!’ আর অন্যজন বলেন: ‘হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন!'” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
কৃপণ স্বামীর বিধান ও একটি হাসির গল্প
যদি স্বামী কৃপণ হয় এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটায় না, তাহলে স্ত্রী কী করবে? হিন্দ (রা.)—যিনি আবু সুফিয়ানের স্ত্রী ছিলেন—রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আবু সুফিয়ান একজন অত্যন্ত কৃপণ লোক। তিনি আমাকে ও আমার সন্তানদের পর্যাপ্ত খরচ দেন না; তাই আমি তাঁর অগোচরে তাঁর অজান্তেই কিছু সম্পদ নিয়ে নিই।” নবীজী (সা.) বললেন: “তুমি তোমার ও তোমার সন্তানদের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তা ন্যায়সঙ্গতভাবে (মারুফ তরিকায়) নিতে পারো।” [সহীহ বুখারী]
একটি হাসির গল্প প্রচলিত আছে: এক নারী তাঁর স্বামীর চরম কৃপণতা নিয়ে ঝগড়া করছিলেন। তিনি
