“আমরা খুব কষ্টে আছি, আমাদের অনেক অভাব-অনটন।” ইব্রাহিম (আ.) বললেন: “তোমার স্বামী ফিরলে তাঁকে আমার সালাম দিয়ো এবং বোলো যেন সে তার ‘ঘরের চৌকাঠ’ বদলে ফেলে।” ইসমাইল (আ.) ফিরে এসে ইঙ্গিত বুঝে স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং অন্য একজনকে বিয়ে করলেন।
পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আ.) আবারও এলেন এবং নতুন স্ত্রীর কাছে একই প্রশ্ন করলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে বললেন: “আমরা অনেক সুখে আছি, আমাদের কোনো অভাব নেই।” ইব্রাহিম (আ.) তাঁদের খাবারে বরকতের দোয়া করলেন এবং বলে গেলেন: “তোমার স্বামীকে বোলো যেন সে তার ‘ঘরের চৌকাঠ’ অটুট রাখে।” ইসমাইল (আ.) বললেন: “তিনি আমার পিতা এবং তুমিই সেই চৌকাঠ; তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাকে সারা জীবন আগলে রাখি।”
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন জাগতে পারে—বাবা-মা বললেই কি স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে? উত্তর হলো: এটি বাধ্যতামূলক নয়। দেখতে হবে সেই বাবা-মা কতটা প্রজ্ঞাবান ও খোদাভীরু। যদি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর মতো কোনো মহান পিতা তাঁর ছেলেকে তালাকের নির্দেশ দেন, তবে তা পালিত হবে। কিন্তু সব বাবা-মা কি সেই মাপের প্রজ্ঞাবান?
উপসংহার
পরিবারের প্রতি কৃপণতার পরিণাম ও উদারতার পুরস্কার
পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা মিতব্যয়িতা ও ধৈর্যের গুরুত্ব দেখেছি। এবার আমরা পরিবারের প্রতি উদারতা ও সন্তান লাভের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানব। ইসলাম কৃপণতাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, বিশেষ করে যখন তা পরিবারের প্রতি হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বলেন:
“এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তাদের পন্থা হয় এই দুইয়ের মধ্যবর্তী।” [সূরাহ আল-ফুরক্বান: ৬৭]
রাসূলুল্লাহ (সা.) কৃপণতা ও পরিবারের প্রতি অবহেলা সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন:
“কোনো ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যাদের ভরণপোষণের দায়িত্বশীল তাঁদেরকে অবহেলা করে বা কষ্ট দেয়।” [সহীহ মুসলিম]
অন্য হাদীসে এসেছে: “আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—সে কি তা রক্ষা করেছে নাকি নষ্ট করেছে? এমনকি একজন পুরুষকে তাঁর পরিবার সম্পর্কেও জবাবদিহি করতে হবে।” [সহীহ ইবনে হিব্বান]
একটি দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: প্রতিদিন যখন সূর্য উদিত হয়, তখন সূর্যের দুই পাশে দুজন ফেরেশতা দাঁড়িয়ে ঘোষণা করতে থাকেন—যা পৃথিবীর সকল সৃষ্টি শুনতে পায় (মানুষ ও জিন
