তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

না, তিনি আয়েশা (রা.)-কে বিষয়টি জানালেন। নবীজী (সা.) যখন বাড়ি ফিরলেন এবং খবরটি জানলেন, তখন তিনি আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.)-এর ঘরে এলেন। আলী (রা.) বলেন: “আমরা তখন বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। তিনি আমাদের মাঝখানে বসলেন এবং বললেন: ‘তোমরা যা চেয়েছ আমি কি তার চেয়েও উত্তম কিছুর সন্ধান দেব না? যখন তোমরা বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার (অন্য বর্ণনায় ৩৪ বার) আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। এটি তোমাদের জন্য একজন দাসের চেয়েও অনেক বেশি কল্যাণকর।’” [মুত্তাফাকুন আলাইহি]

আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর কষ্টের গল্প

আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বলেন—“জুবাইর (রা.) যখন আমাকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর একটি ঘোড়া ও একটি উট ছাড়া আর কোনো ধন-সম্পদ ছিল না। আমিই তাঁর ঘোড়াকে ঘাস দিতাম, দেখাশোনা করতাম এবং উটের জন্য খেজুরের আঁটি পিষতাম। আমি পানি তুলতাম এবং আটা মাখতাম। আমি মাথা করে প্রায় দুই মাইল দূর থেকে খেজুরের আঁটি বহন করে আনতাম। পরিশেষে আমার পিতা আবু বকর (রা.) আমাকে একজন খাদেম পাঠিয়ে দিয়ে সেই কষ্ট থেকে মুক্তি দেন, যা আমার কাছে ছিল দাসত্ব থেকে মুক্তির মতো।” [সহীহ বুখারী]

স্ত্রীর প্রতি ভরণপোষণের সওয়াব

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একটি দিনার তুমি আল্লাহর পথে খরচ করলে, একটি দাসের মুক্তির জন্য দিলে, একটি মিসকিনকে দান করলে এবং একটি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করলে—এসবের মধ্যে পরিবারের জন্য ব্যয়কৃত দিনারটির সওয়াবই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি।” [সহীহ মুসলিম]

তিনি আরও বলেছেন: “আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তুমি যা-ই খরচ করো না কেন, এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে খাবারের যে গ্রাসটি তুলে দাও—তার জন্যও তুমি পুরস্কৃত হবে।” [সহীহ বুখারী]

অন্য হাদীসে এসেছে: “যখন কোনো ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য খরচ করে, তবে তা সদকা হিসেবে গণ্য হয়।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
“তুমি নিজে যা খাও তা তোমার জন্য সদকা, তোমার সন্তানকে যা খাওয়াও তাও সদকা এবং তোমার স্ত্রীকে যা খাওয়াও তাও সদকা।” [মুসনাদে আহমাদ; হাদীসটি সহীহ]

ইব্রাহিম (আ.)-এর ঘটনা ও শিক্ষা

বর্ণিত আছে, ইব্রাহিম (আ.) একদা মক্কায় ইসমাইল (আ.)-কে দেখতে এলেন, কিন্তু তাঁকে পেলেন না। ইসমাইল (আ.)-এর স্ত্রীর কাছে তাঁদের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সুরে বললেন:

« <
/ 351
> »