তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

থাকা জরুরি, কারণ এতে অনেক জায়গায় সহীহ ও যঈফ তথ্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে। দ্বীনের নসিহত হিসেবে এটি মনে রাখা শ্রেয়)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন: “তোমরা এমন নারীকে বিয়ে করো যে অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী। কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।” [আবু দাউদ ও তিরমিযী] আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাধ্যমে এবং কনের মা ও নিকটাত্মীয়দের অবস্থা দেখে এই বিষয়ে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আহনাফ বিন কাইস (রহ.) একবার মুয়াবিয়া (রা.)-এর দরবারে গেলেন। মুয়াবিয়া (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: “সন্তান সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?” তিনি বললেন: “সন্তান আমাদের হৃদয়ের ফল এবং আমাদের মেরুদণ্ডের খুঁটি। আমরা তাদের জন্য বিনম্র জমিন ও ছায়া প্রদানকারী আকাশ। তারা চাইলে তাদের দিন, তারা রাগ করলে তাদের সন্তুষ্ট করুন। তবেই তারা আপনাকে প্রাণ খুলে ভালোবাসবে। তাদের ওপর বোঝা হবেন না, নতুবা তারা আপনার মৃত্যু কামনা করবে।” মুয়াবিয়া (রা.) খুশি হয়ে বললেন: “হে আহনাফ! আমি আমার ছেলে ইয়াজিদের ওপর খুব রেগে ছিলাম, কিন্তু আপনার কথা আমার হৃদয় শীতল করে দিল।”

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। কেবল তিনটি উৎস থেকে সওয়াব জারি থাকে—সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” [সহীহ মুসলিম]

উপসংহার

নবজাতকের কানে আজান দেওয়া

আবু রাফি (রা.) বর্ণনা করেন— “আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, ফাতেমা (রা.)-এর কোলে যখন হাসান বিন আলী (রা.) ভূমিষ্ঠ হলেন, তখন তিনি তাঁর কানে আজান দিচ্ছেন।” [সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযী; ইমামদ্বয় একে সহীহ বলেছেন]

এই হাদীসটি নবজাতকের প্রতি ইসলামের গভীর ভালোবাসা ও যত্নের প্রকাশ। একটি শিশু যখন দুনিয়ায় আগমন করে, তখন তার কানে প্রথম যে শব্দ ধ্বনিত হয়, তা হয় আল্লাহর মহত্ত্বের ঘোষণা ও তাওহীদের বাণী।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর ‘তুহফাতুল মওদুদ বি আহকামিল মওলুদ’ গ্রন্থে এই আজানের তাৎপর্য সংক্ষেপে এভাবে তুলে ধরেছেন— “নবজাতকের কানে আজান দেওয়ার গূঢ় রহস্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—যেন মানুষের কানে সর্বপ্রথম এমন কিছু শব্দ প্রবেশ করে যা রবের বড়ত্ব ও মহত্ত্বের ঘোষণা দেয়। সেই সাথে সেই ‘শাহাদাহ’ বা সাক্ষ্যবাণী যা দিয়ে একজন মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে।

« <
/ 351
> »