তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

নীতি বা পারিবারিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন আসত।
পার্থিব জৌলুস ও আখিরাতের পথে দৃঢ়তা
একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণীগণ ভরণপোষণ বৃদ্ধির দাবি জানালেন। তখন নবীজীর পক্ষে ব্যয় বৃদ্ধি করা সম্ভব ছিল না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দীর্ঘ এক মাস তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই আয়াত নাজিল করেন:
“হে নবী! আপনার স্ত্রীদের বলুন—তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার জৌলুস কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা করো, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, আল্লাহ তাদের জন্য মহাপুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরাহ আল-আহ্যাব: ২৮-২৯)
ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদিন আবু বকর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। তিনি দেখলেন, মানুষ নবীজীর দরজায় বসে আছে, কিন্তু কাউকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আবু বকর (রা.) অনুমতি পেলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন। এরপর উমর (রা.)-ও অনুমতি পেয়ে ভেতরে গেলেন। তাঁরা দেখলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত বিমর্ষ ও নিশ্চুপ হয়ে বসে আছেন এবং তাঁর চারপাশ ঘিরে তাঁর স্ত্রীরা বসে আছেন। উমর (রা.) ভাবলেন, ‘আমি এমন কিছু বলব যাতে নবীজীর মুখে হাসি ফোটে।’ তিনি কিছু কথা বলতেই নবীজী (সা.) বললেন: “তুমি দেখছ, ওরা আমার চারপাশে বসে আমার কাছে অতিরিক্ত ভরণপোষণ দাবি করছে।”
তখন আবু বকর (রা.) আয়েশা (রা.)-এর ঘাড়ে এবং উমর (রা.) হাফসা (রা.)-এর ঘাড়ে মৃদু আঘাত করে বললেন: “তোমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এমন কিছু দাবি করছ যা দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর নেই?!” তাঁরা বললেন: “আল্লাহর কসম! আমরা কখনোই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এমন কিছু চাইব না যা তাঁর কাছে নেই।”
এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদের থেকে দীর্ঘ ২৯ দিন বিচ্ছিন্ন রইলেন। অতঃপর উপরোক্ত আয়াতগুলো নাজিল হলে তিনি প্রথমে আয়েশা (রা.)-কে ডেকে বললেন: “হে আয়েশা! আমি তোমার সামনে একটি বিষয় পেশ করছি, আমি চাই তুমি তাড়াহুড়ো না করে তোমার বাবা-মায়ের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নাও।” আয়েশা (রা.) বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! বিষয়টি কী?” নবীজী (সা.) তাঁকে আয়াতটি পড়ে শোনালেন। আয়েশা (রা.) সাথে সাথে বললেন: “আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে কি আমি আমার বাবা-মায়ের পরামর্শ নেব?

« <
/ 351
> »