তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

তুলবে—এটাই সৃষ্টির ভারসাম্য। এমনকি আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বেও উপার্জনশীল নারী পুরুষের দৃঢ় নেতৃত্ব ও আশ্রয়তলে থাকতেই নিজেকে বেশি নিরাপদ ও প্রশান্ত অনুভব করে। [সূত্র: ইসলাম ওয়া মুশকিলাতুল জিন্সিয়্যাহ]।
ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যা: শ্রেষ্ঠত্ব মানেই মহানুভবতা
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) কুরআনে বর্ণিত এই ‘বিশেষ মর্যাদা’ বা ‘দরজা’-এর এক বিস্ময়কর ও গভীর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, এই মর্যাদা কেবল শাসন করার ক্ষমতা নয়, বরং এটি হলো— “স্ত্রীর ওপর স্বামীর যে অধিকার রয়েছে, সেখান থেকে স্বামী কর্তৃক কিছুটা ছাড় দেওয়া, স্ত্রীর ত্রুটিগুলো মার্জনা করা এবং স্ত্রীর প্রতি নিজের দায়িত্বগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করা।”
ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর এই মহানুভবতাকে নিজের জীবনে এভাবে প্রতিফলিত করতেন: “আমি স্ত্রীর ওপর আমার পূর্ণ অধিকার উসুল করতে পছন্দ করি না; কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ‘নারীদের ওপর পুরুষদের রয়েছে একটি বিশেষ মর্যাদা’।” অর্থাৎ স্বামী যদি তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে চায়, তবে তাকে হতে হবে ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল। স্ত্রী যদি হকের ক্ষেত্রে কিছুটা কমতিও করে ফেলে, তবে স্বামী তা উদারচিত্তে মার্জনা করবে। এই সৌজন্য ও সুমহান চরিত্রই হলো পুরুষের প্রকৃত ‘দরজা’ বা উচ্চতর অবস্থান। [তাফসীরে তাবারী]।
মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি প্রতিফলন
সুস্থ রুচি ও বিবেকসম্পন্ন নারী তার জীবনসঙ্গীর মাঝে এই বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও অভিভাবকত্বই খুঁজে পেতে ভালোবাসে। সে এমন এক পুরুষকে পছন্দ করে যে তার আশ্রয় ও নিরাপত্তার প্রাচীর হবে। জনৈক মনোবিজ্ঞানীর মতে, পুরুষ হলো প্রভাব বিস্তারকারী সত্তা আর নারী হলো সেই প্রভাব গ্রহণকারী ও লালনকারী। এমনকি আধুনিক ফ্রান্সের আইনেও (ধারা: ২৩৮) পরিবার প্রধান হিসেবে স্বামীকেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আজকের পৃথিবী যখন বুঝতে পেরেছে যে নারীকে কেবল উপার্জনের যন্ত্র বানিয়ে ঘর থেকে বের করে আনায় পারিবারিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে, তখন তারা আবার নারীকে ঘরে ফেরাতে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করছে। পরিশেষে প্রমাণিত হলো যে, আল্লাহর দেওয়া এই প্রাকৃতিক নিয়মই মানবজাতির জন্য একমাত্র কল্যাণকর পথ।
রাসূলুল্লাহ (সা.): এক দৃঢ়চেতা স্বামী ও নেতা
পারিবারিক জীবনে দৃঢ়তা ও নমনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেই আমরা এই ভারসাম্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখতে পাই। একদিকে তিনি স্ত্রীদের সাথে অত্যন্ত স্নেহ-ভালোবাসার সম্পর্ক বজায় রাখতেন, অন্যদিকে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে দ্বিধা করতেন না—বিশেষ করে যখন দ্বীনের মৌলিক

« <
/ 351
> »