নেতৃত্বও ক্ষুণ্ন হবে। কারণ এই নেতৃত্ব মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে: বাইরের জগতের কঠিন কাজের জন্য পুরুষের বিশেষ যোগ্যতা এবং পরিবারের ভরণপোষণের গুরুদায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হওয়া।
এতদসত্ত্বেও, পুরুষের এই নেতৃত্ব বা কর্তৃত্বের অর্থ এই নয় যে—সে দ্বীনদারিতে বা দুনিয়াবি মর্যাদায় নারীর চেয়ে একান্তভাবে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: “অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের মধ্যে কোনো আমলকারীর আমলই নষ্ট করি না—সে পুরুষ হোক বা নারী, তোমরা একে অপরের অংশ।” [সূরাহ আলে ইমরান: ১৯৫]
বরং এই নেতৃত্ব হলো একটি ‘সাংগঠনিক নীতি’, যা সমাজের সুষ্ঠু কাঠামো এবং পার্থিব জীবনের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। এটি অনেকটা রাষ্ট্রপ্রধান বা নেতার নেতৃত্বের মতো; যার অর্থ এই নয় যে নেতা তাঁর প্রতিটি প্রজার চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু সমাজবদ্ধ জীবনের প্রয়োজনে যেমন নেতৃত্ব অপরিহার্য, তেমনি পারিবারিক শান্তি রক্ষায়ও এই শৃঙ্খলা মেনে নেওয়া জরুরি। কোনো মুসলিম ব্যক্তি জ্ঞান বা আমলের দিক থেকে নেতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেও যেমন সেই নেতৃত্ব অমান্য করা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, দাম্পত্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। এই আদর্শ নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভারসাম্যই একটি পরিবারকে জান্নাতী সুখে ভরিয়ে দিতে পারে।
পারিবারিক নেতৃত্বে পুরুষের অভিভাবকত্ব: এক শাশ্বত বাস্তবতা
পরিবার নামক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য ইসলাম পুরুষকে নেতৃত্বের ভার দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন: “পুরুষেরা নারীদের ওপর তদারককারী; যেহেতু আল্লাহ তাদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।” [সূরাহ আন-নিসা: ৩৪]। অন্যত্র বলা হয়েছে: “নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি সংগতভাবে নারীদেরও অধিকার রয়েছে। আর নারীদের ওপর পুরুষদের রয়েছে একটি বিশেষ মর্যাদা (দরজা)।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২২৮]।
ইসলাম এখানে নতুন কোনো বোঝা চাপিয়ে দেয়নি, বরং মানব প্রকৃতির অমোঘ নিয়মকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকেই নারীর সহজাত প্রকৃতি পুরুষের সান্নিধ্য ও অভিভাবকত্ব ছাড়া নিজেকে নিরাপদ মনে করে না। জীবনসংগ্রামের রুক্ষতা ও উপার্জনের হাড়ভাঙা খাটুনি সে পুরুষের ওপর ছেড়ে দিয়েই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ‘কাউয়ামাহ’ বা নেতৃত্বের অর্থ এখানে কোনো স্বৈরাচারী আধিপত্য নয়, বরং এটি এক গুরুভার দায়বদ্ধতা। পুরুষ তার শক্তিশালী পেশি ও শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে প্রতিকূলতা জয় করবে এবং নারী তার কোমল হৃদয় দিয়ে সেই নীড়কে শান্তিময় করে
