তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

মাধ্যম হিসেবে ভুল বুঝে থাকেন এবং এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে স্ত্রীদের সাথে মন্দ আচরণ করেন। অন্যদিকে, কিছু নারী এই নেতৃত্বের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করে স্বামীর অবাধ্য হন; যার ফলে সংসারে বিবাদ ও বিচ্ছেদ নেমে আসে। অথচ স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি নিজ নিজ অধিকার ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকতেন, তবে তাঁরা পরম শান্তিতে বসবাস করতে পারতেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কালামে এরশাদ করেছেন: “পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল (তদারককারী); যেহেতু আল্লাহ তাদের একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।” [সূরাহ আন-নিসা: ৩৪]
এই আয়াতটি আল্লাহর একটি চিরন্তন ও শাশ্বত নিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে—আর তা হলো নারীর ওপর পুরুষের এই সাংগঠনিক নেতৃত্ব। মহান আল্লাহ তাঁর হিকমত অনুযায়ী এর পেছনে দুটি মৌলিক কারণ নির্দিষ্ট করেছেন:
প্রথমত: স্বভাবজাত প্রকৃতি ও সক্ষমতা পুরুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি নারীর চেয়ে ভিন্ন। নারী ঘর পরিচালনা, সন্তান লালন-পালন ও তাঁদের মমতায় আগলে রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। এটি তাঁর জন্মগত কোমলতা ও শারীরিক গঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নারীর স্নায়ুতন্ত্র কিছুটা কোমল হওয়ায় তিনি গর্ভাবস্থা ও প্রসব বেদনা সহ্য করার মানসিক শক্তি পান; যদিও একই কারণে তিনি দ্রুত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, যা অনেক সময় সংকটের মুহূর্তে পুরুষোচিত দৃঢ়তা বজায় রাখা তাঁর জন্য কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে, পুরুষ তাঁর শারীরিক শক্তি, চিন্তার গভীরতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিকূল পরিবেশে ধৈর্য ও অটলতায় নারীর চেয়ে অগ্রগামী। এই বৈশিষ্ট্যই তাকে জীবনসংগ্রামের কঠিন পরিশ্রম সওয়া এবং পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষা ও অনাগত বিপদ প্রতিহত করার উপযোগী করে গড়ে তোলে।
দ্বিতীয়ত: আর্থিক দায়বদ্ধতা ও ভরণপোষণ এই নেতৃত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো পুরুষের অর্থ ব্যয় বা ভরণপোষণের দায়িত্ব। পুরুষই তাঁর স্বভাবজাত সামর্থ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করে। যুক্তি ও ন্যায়ের খাতিরেই এটি মানতে হয় যে—যাকে কোনো সংস্থা বা গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেই ব্যয়ের তদারকি বা তদানুযায়ী সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রধান অধিকার তাঁরই থাকা উচিত। বর্তমান বিশ্বের সংসদীয় শাসনব্যবস্থাগুলোতেও এই নীতিটি আইন প্রণয়নের অন্যতম মূলভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। এখন আমরা যদি নারীকে ঘরের বাইরে হাড়ভাঙা খাটুনিতে ঠেলে দিই, তবে একদিকে যেমন তিনি তাঁর প্রধান দায়িত্ব (ঘর ও সন্তান) থেকে বিচ্যুত হবেন, অন্যদিকে পবিত্র আয়াতে বর্ণিত পুরুষের এই

« <
/ 351
> »