করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দেয়; যদি স্ত্রী উঠতে অস্বীকার করে তবে সে তার মুখে পানির ছিটা দেয়। আর আল্লাহ সেই নারীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগিয়ে দেয়; যদি স্বামী উঠতে অস্বীকার করে তবে সে তার মুখে পানির ছিটা দেয়।” [মুসনাদ আহমাদ ও নাসায়ী; হাদীসটি সহীহ]
অন্য হাদীসে এসেছে: “যদি কোনো ব্যক্তি রাতে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয় এবং তাঁরা দুজনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন, তবে সেই রাতে তাঁদের নাম ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী’দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।” [আবূ দাউদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন: “রাতের নামাজ মানুষের চেহারাকে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় করে।” জনৈক নেককার নারী অধিক রাত জেগে নামাজ পড়তেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: “এটি চেহারাকে সুন্দর করে, আর আমি নিজের চেহারা সুন্দর করতে ভালোবাসি।” তদুপরি বারবার ওজু করা এবং মুখমণ্ডল ধৌত করা কেবল ত্বকের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালনও সচল রাখে।
‘আল-উসরাতু ফিল ইসলাম’ গ্রন্থে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে— এটি এক প্রেমময় দম্পতির অনুপম চিত্র, যাঁরা ইবাদতের স্বাদ ও আনুগত্যের মাধুর্য আস্বাদন করছেন। আধুনিক যুগে দ্বীনী মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে; স্বামী দ্বীনদার হলেও অনেক সময় তিনি পরিবারের দায়িত্বের কথা ভুলে যান এবং ভাবেন কেবল নিজের আমলই যথেষ্ট। এই উদাসীনতা পারিবারিক বন্ধনকে দুর্বল ও শ্রীহীন করে তোলে।
দাম্পত্য জীবনের বাস্তবতা ও হানযালা (রা.)-এর অনন্য দৃষ্টান্ত
দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে অবাস্তব কল্পনায় বিভোর হওয়া উচিত নয়। কেউ যদি মনে করে বিয়ে মানেই কেবল নিরবচ্ছিন্ন সুখের ধারা, তবে দায়িত্বের মুখোমুখি হলে সে দ্রুতই অনুতপ্ত হবে। বরং শুরু থেকেই মনে রাখা উচিত যে, বিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা—যার হিসাব-নিকাশ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এর মাঝে কিছু কষ্ট থাকলেও সামগ্রিকভাবে তা দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়। সন্তানের সান্নিধ্য আর স্ত্রীর সাহচর্য যেমন চোখের প্রশান্তি আনে, তেমনি নারী ও সন্তানের লালন-পালনের ঝক্কিগুলো ধৈর্যের সাথে সইতে হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, জীবনে দিন ও রাত যেমন পর্যায়ক্রমে আসে, মানুষের জীবনও তেমনি সবসময় একই তালে চলে না।
উহুদ যুদ্ধে হানযালা ইবনে
