তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।” [সূরাহ আল-আহ্যাব: ৩২-৩৪]
এই মহান আয়াতগুলো নারীর জন্য কিছু বিশেষ শিষ্টাচার নির্দেশ করে। যেমন—প্রয়োজনে কোনো পরপুরুষের সাথে কথা বলতে হলে গম্ভীর ও দৃঢ়ভাবে কথা বলা। এছাড়া ঘরে অবস্থান করা—যা নারীর প্রকৃত রাজ্য। প্রবাদ আছে, “মা তাঁর বাম হাতে সন্তানের দোলনা দোলান আর ডান হাতে বিশ্বকে নাড়িয়ে দেন।” মা যদি সন্তানদের বলিষ্ঠ ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলেন, তবে তিনি কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো জাতির এমনকি মানবজাতির ভাগ্যনিয়ন্তা হয়ে ওঠেন। একজন শিক্ষাবিদ বলেছিলেন: “শিক্ষার লাগাম আমার হাতে দাও, আমি তোমাদের পুরো পৃথিবীর চেহারা বদলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি!”
আয়াতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—নারীর উচিত তার সংস্কারক ও দ্বীনের প্রচারক স্বামীকে সহযোগিতা করা এবং স্বামীর মহৎ চিন্তাগুলো ধারণ করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এভাবে নারী কেবল স্বামীর শয্যাসঙ্গিনী নয়, বরং তাঁর একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ও পরামর্শদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীরা এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বলেই পুরুষরা বাইরের নারীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা অবাধ মেলামেশার কারণে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।

সন্তান: দুনিয়া ও আখিরাতের পুঁজি
মুমিন ও নেককার স্বামী-স্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত সুদূরপ্রসারী। অবসর সময়ে তাঁদের উচিত ইসলামের গভীর জ্ঞান অর্জনে অধিক পড়াশোনা করা এবং মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা। সন্তানদের কেবল স্কুলের পড়াশোনা আর খেলাধুলায় মগ্ন না রেখে তাঁদের সুশৃঙ্খল ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা অপরিহার্য।
সন্তানদের দ্বীনী শিক্ষার ক্ষেত্রে অবহেলা করলে তার ভয়াবহ পরিণাম বাবা-মাকেই ভোগ করতে হয়—এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা ইসলাম থেকে বিচ্যুতও হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা তারা পেছনে রেখে যায় (তাদের কর্মের চিহ্নসমূহ)।” [সূরাহ ইয়াসীন: ১২]। সন্তান হলো বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সেই শ্রেষ্ঠ চিহ্ন, যার সুফল তাঁরা মৃত্যুর পরেও পেতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “মানুষ যখন মারা যায়, তখন তিনটি মাধ্যম ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।” [সহীহ মুসলিম]

রাতের ইবাদত: দাম্পত্যের আধ্যাত্মিক দিক
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ

« <
/ 351
> »