আবূ আমির (রা.) শহীদ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: “তোমাদের এই সঙ্গীকে ফেরেশতারা গোসল করাচ্ছেন।” সাহাবীগণ তাঁর স্ত্রীর কাছে গিয়ে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “জিহাদের ডাক শুনে তিনি যখন ঘর থেকে বেরিয়ে যান, তখন তিনি অপবিত্র (জানাবাত) অবস্থায় ছিলেন।” [তিরমিযী ও হাকেম; হাদীসটি সহীহ]
এই মহান সাহাবীর ত্যাগ লক্ষ্য করুন! তিনি জিহাদের ডাক শোনা মাত্রই বাসর ঘরের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে শাহাদাতকে আলিঙ্গন করেছিলেন। এমন মানসিকতা থাকলেই কোনো জাতি বিজয়ী ও সম্মানিত হয়।
আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর সিদ্ধান্ত ও জিহাদের গুরুত্ব
‘যাম্মুল হাওয়া’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর পুত্র আব্দুল্লাহ বিয়ে করেছিলেন আতিকা বিনতে যায়েদকে। আতিকা ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী ও সচ্চরিত্রা নারী। তাঁর মহব্বতে আব্দুল্লাহ এতটাই মগ্ন হলেন যে, তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহে যাওয়া প্রায় ছেড়ে দিলেন। আবু বকর (রা.) এটি দেখে তাঁকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: “এই নারী তোমাকে জিহাদ থেকে উদাসীন করে দিয়েছে।” আব্দুল্লাহ মনের কষ্টে স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং বিরহগাথা গাইতে লাগলেন:
“আজকের দিনে আমার মতো কে বা আছে ভুবনে,
যে এমন প্রিয়তমাকে বিসর্জন দিল মনে?
যাঁর রূপ-গুণ আর বংশমর্যাদা অতুলনীয় ধরায়,
বিনা অপরাধে বিরহ-ব্যথা যাকে শুধু কাঁদায়!”
ছেলের এমন করুণ দশা দেখে আবু বকর (রা.) তাঁকে স্ত্রী ফিরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিলেন। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ (রা.) তায়েফ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তীরের আঘাতে জখম হয়ে মদিনায় শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, দাম্পত্য প্রেম ও ভালোবাসা জিহাদ ও দ্বীনের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়; বরং তা উভয়কে আরও শক্তিশালী ও অনুপ্রাণিত করবে।
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) ও তাঁর পরিচারিকাগণ
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) যখন খিলাফতের দায়িত্ব পেলেন, তখন তাঁর ঘর থেকে কান্নার উচ্চস্বর শোনা গেল। কারণ জিজ্ঞেস করলে জানা গেল—তিনি তাঁর পরিচারিকাদের ডেকে বললেন: “আমার ওপর এমন এক বিশাল দায়িত্ব (খিলাফত) অর্পিত হয়েছে যা আমাকে তোমাদের থেকে বিমুখ করে দিয়েছে। তোমরা চাইলে মুক্ত হয়ে চলে যেতে পারো, আর যদি থাকতে চাও তবে আমার পক্ষ থেকে (স্ত্রীসুলভ) কোনো মনোযোগ পাবে না।” এ কথা শুনে বিচ্ছেদের আশঙ্কায় তারা উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করল। এই ঘটনা থেকে আমরা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের গুরুত্ব বুঝতে পারি। দাম্পত্য জীবনে
