সাহচর্য পায়নি; গর্ভে থাকাকালীন মায়েরা ছিল কর্মক্ষেত্রে পরিশ্রান্ত, আর জন্মের পর তারা ছিল আয়া বা ডে-কেয়ারের জিম্মায়। এই ব্যর্থ অভিজ্ঞতা থেকে কি আমরা শিক্ষা নেব না?
তথাকথিত ‘নারী অধিকার’পন্থীদের একটি বড় যুক্তি হলো—নারীকে ঘরে বসিয়ে রাখা মানে সমাজের অর্ধেক শক্তিকে অচল করে রাখা। তাদের এই দাবি ভিত্তিহীন, কারণ তাঁরা মনে করেন ঘরে নারীর কোনো কাজ নেই! বাস্তবতা হলো, সুচারুভাবে ঘর পরিচালনা, স্বামী ও সন্তানের যত্ন এবং পরিবারের বহুমুখী প্রয়োজন মেটাতে একজন নারীর পুরো সময় ব্যয় হয়; এমনকি অনেক সময় সময়ের সংকুলানও হয় না। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—কর্মজীবী নারীদের নিজেদের অভাব পূরণের জন্য আলাদাভাবে পুরুষ বা নারী ভৃত্য নিয়োগ করতে হয়। তাহলে রাষ্ট্র কী লাভ করল? নারী বাইরে কাজ করতে গিয়ে নিজের জায়গায় অন্য একজনকে বসিয়ে রাখল, যা কেবল বিশৃঙ্খলাই বাড়াল। অর্থনীতির দোহাই দিয়ে আমরা কি এমন এক প্রজন্ম উপহার দেব যারা সঠিক লালন-পালনের অভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে?
দায়িত্বশীলতা: একটি সার্বজনীন নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]
এই হাদীসে বর্ণিত দায়িত্ব কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর পরিধি ব্যাপক। সন্তান তার পিতার সম্পদের রক্ষক, শ্রমিক তার মালিকের আমানতের রক্ষক এবং মালিক তার শ্রমিকের অধিকারের ব্যাপারে সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্বশীল। প্রতিটি মানুষই তার অবস্থান অনুযায়ী কোনো না কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত এবং কিয়ামতের দিন প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এই হাদীসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার জীবনে আমরা যা কিছু করি, তার জন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বামী যেমন তার পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধ, তেমনি স্ত্রীও তার সংসার ও সন্তানদের প্রতি দায়বদ্ধ। এমনকি চাকর-চাকরও তাদের কাজের দায়িত্ব থেকে মুক্ত নয়। এই দায়িত্ববোধই একটি সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি।
বিবাহের রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্যসমূহ
ইসলামে বিবাহকে শুধু ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় না; বরং এর একটি বৃহত্তর সামাজিক, রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্যও রয়েছে। একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন সুস্থ, শিক্ষিত ও আদর্শবান জনসংখ্যা। আর এই জনসংখ্যা গঠনের মূল ভিত্তি হলো বিবাহবন্ধন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: “আর তোমরা তাদের (শত্রুদের)
