তাঁর বইয়ের শিরোনামে বুঝিয়েছেন। যুগ যুগ ধরে নারী তাঁর ঘরে পরম শ্রদ্ধা, মমতা আর আদরের সাথে রানীর মতো অবস্থান করেছেন এবং অন্তরাল থেকে স্বামীর ওপর কর্তৃত্ব করেছেন। তিনি কখনোই নিজেকে অধিকারবঞ্চিত, নির্যাতিত কিংবা লাঞ্ছিত মনে করেননি।
যতক্ষণ না একদল লেখক ‘নারী অধিকার’-এর ঝাণ্ডা নিয়ে মাঠে নামলেন, ততক্ষণ এই সংকট ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আন্দোলনের উদ্যোক্তারা ছিলেন মূলত পুরুষ, নারী নন! তাঁদের এই তৎপরতা নারী-পুরুষ উভয়ের জীবনকেই বিষিয়ে তুলেছে। কারণ জীবন চলে পরম প্রশান্তি আর স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে; অথচ নারী-পুরুষের এই কৃত্রিম সংঘাত প্রশান্তির বদলে ঘৃণা আর অস্থিরতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁদের মাঝে প্রেম ও দয়া সৃষ্টি করেছিলেন, যার ওপর ভিত্তি করেই মানবসভ্যতা টিকে থাকে।
একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে পারস্পরিক হৃদ্যতা আর যার যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের মাধ্যমে। এটি একটি দেহের মতো, যার প্রতিটি অঙ্গ নির্দিষ্ট কাজ করে; কোনো একটি অঙ্গ বিদ্রোহ করলে পুরো শরীর অচল হয়ে যায়। আল্লাহ প্রতিটি সৃষ্টিকে তাঁর উপযোগী প্রকৃতি দান করেছেন এবং সেই অনুযায়ী কাজের পথ দেখিয়েছেন। আধুনিক বিশ্বের শিল্প ও বিজ্ঞানের উন্নতিও আজ ‘বিশেষায়িত জ্ঞান’ বা স্পেশালাইজেশনের ওপর দাঁড়িয়ে। তবে কেন আমরা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে এই বিশেষায়িত কর্মবণ্টন মেনে নিতে অস্বীকার করি?
যে পুরুষ সারাদিন বাইরের রুক্ষ জগতে কঠোর পরিশ্রম করে ঘরে ফেরেন, তাঁর এমন এক সঙ্গিনী প্রয়োজন যিনি পরিপাটি ও প্রশান্ত মনে তাঁকে সঙ্গ দেবেন, তাঁর ক্লান্তি দূর করবেন এবং বাইরের জগতের কর্কশ ব্যবহারের ক্ষতগুলো মমতায় ভুলিয়ে দেবেন। কিন্তু নারী যখন বাইরের কর্মক্ষেত্রে পুরুষের মতো পরিশ্রান্ত হয়ে ঘরে ফেরেন, তখন কে কার ক্লান্তি দূর করবে? কার মনে সেই ধৈর্য থাকবে যা দিয়ে সন্তানদের চঞ্চলতা আর দুষ্টুমি হাসি মুখে সয়ে নেওয়া যায়? এমন যান্ত্রিক জীবনে মানুষ—সে নারী হোক বা পুরুষ—নিছক একটি যন্ত্রের চাকায় পরিণত হয়, যেখানে কোনো মানসিক আশ্রয় বা স্বস্তি থাকে না।
পাশ্চাত্য সমাজের এই ব্যর্থতার পরিণাম আজ সবার সামনে স্পষ্ট। তাদের এই প্রজন্ম আজ লক্ষ্যহীন, ছন্নছাড়া এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পশ্চিমা পরিসংখ্যান অনুযায়ীই আজ সেখানে অস্বাভাবিকতা আর চারিত্রিক বিচ্যুতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর মূল কারণ হলো, এই সন্তানরা তাদের মায়েদের মমতাময়ী
