জন্মগত মমত্ববোধ ও একাগ্রতা থাকে, তা কোনো বেতনভুক্ত কর্মচারীর কাছ থেকে আশা করা বাতুলতা মাত্র। বাইরের প্রতিষ্ঠান যতই উন্নত হোক না কেন, সেখানে মায়ের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কখনো পাওয়া যাবে না; আর অবহেলা ও যান্ত্রিকতার যে করুণ পরিণাম আজ আমরা সমাজে দেখছি, তা তো ভাষায় বর্ণনাতীত।
অধিকন্তু, কর্মজীবী মায়েদের কৃত্রিম উপায়ে সন্তানকে দুধ পান করানো আমানতের খেয়ানত এবং আল্লাহর শাশ্বত নিয়মের পরিপন্থী। স্রষ্টা নারীর স্তন কেবল রূপ প্রদর্শনের জন্য সৃষ্টি করেননি, বরং তা মূলত সন্তানের পুষ্টির উৎস হিসেবে তৈরি করেছেন। স্তন্যদান কেবল একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মা ও সন্তানের হৃদয়ের এক গভীর মিলনবন্ধন। আজ যদি সমাজ কৃত্রিম স্তন্যদানকে স্বাভাবিক মনে করে, তবে ভবিষ্যতে হয়তো তারা রূপ রক্ষার খাতিরে কৃত্রিম উপায়ে সন্তান ধারণের প্রযুক্তিও আবিষ্কার করতে চাইবে—যা হবে প্রকৃতির ওপর চরম আঘাত!
এই শতাব্দীর শুরুতে যারা নারী শিক্ষার দাবি তুলেছিলেন, তাঁদের অজুহাত ছিল—শিক্ষিত নারী সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করতে পারবে। কিন্তু নারী যখন শিক্ষিত হলো, তখন তাঁরা সেই মহান উদ্দেশ্য ভুলে গেলেন এবং নারীকে পুরুষের একটি কার্বন কপি বানানোর নেশায় মেতে উঠলেন। তাঁদের এই আচরণ প্রমাণ করে যে, নারী শিক্ষার আড়ালে তাঁদের উদ্দেশ্য মোটেও মহৎ ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল নিগূঢ় কোনো ষড়যন্ত্র।
পরিশেষে, তথাকথিত ‘নারী দরদী’দের (যারা আসলে নিজেদের ও নারীজাতির শত্রু) উদ্দেশ্যে বলা প্রয়োজন যে—বাইরের জগতের কঠিন জীবনসংগ্রাম ও কঠোর শ্রমের জন্য নারী কখনোই পুরুষের মতো উপযোগী নয়। নারীর শারীরিক গঠন এমন যে, প্রতি মাসে তাঁকে ঋতুস্রাবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়—যা প্রায় একটি অসুস্থতার মতো অবস্থা। এরপর গর্ভাবস্থার প্রথম মাসগুলোতে অবর্ণনীয় কষ্ট ও ক্লান্তি এবং শেষ মাসগুলোতে গর্ভের ভার তাঁকে প্রায় স্থবির করে ফেলে। এমতাবস্থায় একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে টেনে আনা তাঁর প্রতি অবিচার ছাড়া আর কিছু নয়।
উপসংহার
পরিবার ও সমাজের ভারসাম্য রক্ষায় নারীর ভূমিকা
নারীর তথাকথিত হিতৈষীরা দাবি করেন যে, নারীর ঘরে অবস্থান করা মানেই তার অধিকার খর্ব করা এবং তার ব্যক্তিত্বকে হত্যা করা। কিন্তু কী অদ্ভুত এই বিচার! যে নারীকে সযত্নে আগলে রাখা হয়, যাঁর সকল প্রয়োজন অনায়াসে পূরণ করা হয়, তাঁকে ‘বন্দী’ আখ্যা দেওয়া মূলত সত্যের অপলাপ মাত্র—যেমনটি ‘তাহরীরুল মারআ’ (নারী মুক্তি) গ্রন্থের লেখক
