তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সিংহভাগ দায়িত্ব যেহেতু মায়ের কাঁধে, তাই এই কঠিন কাজে সফল হওয়ার জন্য তাঁকে প্রচুর অধ্যয়ন ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তদুপরি, সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে কিংবা যখন দুগ্ধ পান করে, তখন মায়ের মানসিক প্রশান্তি থাকা অত্যন্ত জরুরি। মনোবিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে, মায়ের অস্থিরতা ও মানসিক চাপ সরাসরি সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডা. মুহাম্মদ মুহাম্মদ হোসেন এ বিষয়ে লিখেছেন— “এটি স্পষ্ট যে, নারীত্বের প্রধান কাজ—যা অন্য কেউ সম্পাদন করতে পারে না—তা হলো বংশরক্ষা ও মানবজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। পুরুষের শারীরিক গঠন সন্তান ধারণ বা স্তন্যদানের উপযোগী নয়। এটি প্রমাণিত যে, কঠোর পরিশ্রম নারীর মেজাজ ও স্নায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আর সেই প্রভাব গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের ওপর এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দুগ্ধজাত শিশুর ওপর সঞ্চারিত হয়। এমনকি অনেক বংশগতিবিদ মনে করেন, গর্ভধারণ ও প্রসবকালীন সময়ে বাবা-মায়ের চারিত্রিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো সন্তানের মাঝেও সংক্রামিত হতে পারে। সুতরাং যে নারীর ওপর গর্ভধারণ এবং সন্তানের নিরাপত্তার ভার অর্পিত হয়েছে, তাঁকে স্নায়বিক উত্তেজনা এবং অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম থেকে মুক্ত রাখা অপরিহার্য। এটি কেবল নারীর অধিকার নয়, বরং মানবজাতির সুস্থ অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই এটি অতি আবশ্যক। এছাড়া সন্তান যেন মায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থেকে শারীরিকভাবে সুস্থ এবং মানসিকভাবে নীতিবান হয়ে বেড়ে উঠতে পারে, সে সুযোগ তাঁকে দিতে হবে। সৎ অভ্যাস গঠন কেবল হুকুম দিয়ে হয় না, বরং নিরন্তর পর্যবেক্ষণ ও সাহচর্য প্রয়োজন হয়। ধৈর্যশীল ও অতন্দ্র মায়ের এই সুনিপুণ তদারকিই পারে সন্তানের চারিত্রিক ত্রুটিগুলো অঙ্কুরেই বিনাশ করতে।”
সন্তানের সাথে মায়ের সম্পর্ককে কেবল গর্ভধারণ আর প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা মানে মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনা। মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো তার সন্তানদের দীর্ঘকালীন লালন-পালন ও সাহচর্য প্রদান; যা কেবল শারীরিক পুষ্টির জন্য নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক উন্নতির জন্যও অনস্বীকার্য। মানব সভ্যতার অগ্রগতির অন্যতম কারণ হলো—পূর্ববর্তী প্রজন্মের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা, আর এই মহান কাজটি মায়ের চেয়ে উত্তম কেউ করতে পারে না।
একজন কর্মজীবী নারী যখন সন্তানকে আয়া বা ডে-কেয়ারের ওপর ছেড়ে দেন, তখন সেই সন্তানের সঠিক বিকাশ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ সন্তানের প্রতি মায়ের যে

« <
/ 351
> »